তিন প্রজন্মের মানবিকতার গল্প
বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নদী পার করাচ্ছেন কমলেশ
সুতিয়া নদীর স্বচ্ছ জল আর মৃদুমন্দ ঢেউয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অনন্য মানবিক গল্প। এই নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা সবুজ গ্রামগুলোর সহজ-সরল মানুষদের মাঝেই বাস করেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের কমলেশ চন্দ্র দাস। পেশায় মাঝি হলেও স্থানীয়রা তাকে চেনেন শিক্ষার্থীদের মানবিক অভিভাবক হিসেবে।
মাটির একটি ঘর। সেই ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস কমলেশের। সহায় সম্বল নেই বললেই চলে। স্বল্প আয় দিয়ে সংসারের বোঝা বয়ে যাচ্ছেন, কমলেশ।
নদী পারাপার যেখানে অনেকের জীবিকার মাধ্যম, সেখানে কমলেশ চন্দ্র দাস গত কয়েক দশক ধরে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থীকে পারাপার করছেন বিনামূল্যে।
কমলেশের এই উদ্যোগ শুধু তাঁর নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর দেখানো পথে অনুপ্রাণিত হয়ে আশপাশের অন্য মাঝিরাও একই কাজ করে যাচ্ছেন ।
কমলেশ চন্দ্র দাসের এই অবদানের স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে এসেছে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া। ‘ভালো কাজের ভালো মানুষ’ শীর্ষক একটি উদ্যোগের আওতায় তাঁর মতো নিভৃতচারী মানুষদের কাজ তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে এই গল্পের শুরু কমলেশের হাত ধরে নয়। তাঁর দাদা উমেশ চন্দ্র দাস প্রথম এই মহৎ কাজের সূচনা করেছিলেন। পরে তার বাবা দীনেশ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে পাওয়া এই দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা আজও অক্ষুণ্ণ রেখেছেন কমলেশ। তিন প্রজন্ম মিলে টানা কয়েক দশক ধরে চালিয়ে যাচ্ছে এই নিঃস্বার্থ সেবা।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: