• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি আ.লীগ নেতা, উপস্থিতি ছিল পুলিশও

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩:১৯, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৩:২০, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি আ.লীগ নেতা, উপস্থিতি ছিল পুলিশও

কুমিল্লার দেবিদ্বারে পুলিশের উপস্থিতিতে মাদকবিরোধী সমাবেশে অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এবং পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের বাবা হাজী নুরুল ইসলাম। দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেবিদ্বার থানার এসআই সাদ্দাম উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাতাকুকুরিয়া ঈদগাহ মাঠের সমাবেশে হাজী নুরুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

জানা যায়, হাজী নুরুল ইসলাম দেবিদ্বার উপজেলার ১৫নং বড়কামতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। সাবেক দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের বাবা। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে কালাম পরিবার রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সম্প্রতি মাদকবিরোধী ওই কর্মসূচিতে হাজী নুরুল ইসলামকে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

আরও জানা যায়, ২০২১ সালের দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় উপজেলা যুবদলের তৎকালীন যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবকে ধামতী এলাকায় মারধর করে আহত করা হয়। বর্তমানে রাকিব উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। ওই ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে মামলা করতে নেতাকর্মীরা ভয় পেয়েছিলেন। বরং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের এপ্রিলে তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেনকে দাউদকান্দির গৌরীপুর এলাকায় বোরকা পরা দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই মাসুদের নাম উঠে আসলেও তারা ক্ষমতার দাপটে পার পেয়ে যায়। এমনই দাবি করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

‘বিএনপির কর্মী সাইফুল বলেন, ১৭ বছর রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমরা মনেপ্রাণে বিএনপি করি। গত ১৭ বছর কালাম পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছিল। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও হয়রানির পরও কিভাবে প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিটিং করে।

এ বিষয়ে হাজী নুরুল ইসলাম বলেন, জামায়াতের শহীদুল আমাকে দাওয়াত দিছে তাই গেছি। আর আমি আওয়ামী লীগের কোনো দাপট খাটাই নাই। 

দেবিদ্বারে মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে পুলিশের উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি (এসআই সাদ্দাম) নতুন এসেছেন থানায়। অনেকে এ বিষয়ে কল দিয়েছেন। বিষয়টি দেখছি। চেয়ারম্যান হাজী নুরুল ইসলামের বিষয়ে বলেন, বয়োবৃদ্ধ হওয়ায় এখনো আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সমাবেশের সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের গ্রাম ভিত্তিক প্রোগ্রাম হওয়াই মুরুব্বি হিসেবে চেয়ারম্যানকে দাওয়াত করেছি। এর চেয়ে বেশি আর কিছু বলতে পারছি না।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত