• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী  

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:১৪, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী  

মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আজকের এই নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের মানুষ শান্তিপ্রিয়। আজকের এই নৌকাবাইচ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমি মানিকগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। বর্তমান সরকারও দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চায়।”

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নৌকা বাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়; এর সঙ্গে বাংলার নদী, মানুষের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে নৌকা বাইচসহ বিভিন্ন লোকজ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কালীগঙ্গা নদী মানিকগঞ্জের মানুষের জীবন ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই নদীকে ঘিরে আয়োজিত নৌকা বাইচে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, মানুষের মধ্যে এখনো দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গভীর টান রয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীর বেউথা ঘাটে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী আরও বলেন, “নৌকাবাইচ আমাদের আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অংশ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব। পাশাপাশি এ ধরনের শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন আয়োজন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়ায়।”

ঢাকঢোল আর বৈঠার ছন্দে এদিন মুখরিত হয়ে ওঠে কালীগঙ্গা নদী। নৌকাবাইচকে ঘিরে বেউথা ঘাট ও নদীর দুই তীরে নামে লাখো মানুষের ঢল। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।
এই নৌকাবাইচে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রতিযোগীরা অংশ নেন। চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ২২টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ক্যাটাগরিগুলো হলো—ছান্দি, ঘাসি, খেল্লা ও পানসি। এর পাশাপাশি ৭০ ও ৮০ হাত দীর্ঘ দুটি কলাগাছের ভেলাও অংশ নেয় ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে।

বাইচ শুরু হলে নদীর দুই পাড়ে উৎসুক দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বৈঠার তালে তালে প্রতিযোগী নৌকাগুলো ছুটে যাওয়ার সময় করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ নদীর পাড় থেকে, আবার কেউ নৌকায় চড়ে উপভোগ করেন জমজমাট প্রতিযোগিতা।

প্রতিযোগিতার ছান্দি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘গায়ান বাড়ি’। পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছে একটি ইলেকট্রিক মোটরবাইক। দ্বিতীয় হয়েছে ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’, তৃতীয় ‘গায়ান তরী’ এবং চতুর্থ ‘সোনার চান’। এ তিন নৌকার প্রতিটিকে একটি করে ফ্রিজ দেওয়া হয়।

ঘাসি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘বাইমাইল এক্সপ্রেস’। বিজয়ী দল পেয়েছে একটি মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় হয়েছে ‘কালাম শিকদার এক্সপ্রেস’; তাদের দেওয়া হয়েছে একটি ফ্রিজ।

খেল্লা ক্যাটাগরিতে কুড়িগ্রাম থেকে আসা ‘মায়ের দোয়া’ নৌকা চ্যাম্পিয়ন হয়। পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছে একটি মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় হয়েছে ‘মা-বাবার দোয়া’; তাদের দেওয়া হয়েছে একটি ফ্রিজ।

পানসি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘জনতা এক্সপ্রেস। পুরস্কার হিসেবে তাদের দেওয়া হয় একটি মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় হয়েছে ‘আজম ব্রাদার্স, তৃতীয় ‘বাগচী চ্যালেঞ্জার’ এবং চতুর্থ ‘নকিব বাড়ি একতা এক্সপ্রেস’। এ তিন নৌকার প্রতিটিকে একটি করে ফ্রিজ দেওয়া হয়।

নৌকাবাইচ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আ ত ম জহির আলম খান লোদীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য-সচিব মাসুদ পারভেজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য বিজ্ঞ পিপি নুরতাজ আলম বাহার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ সহ  বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত