• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারে প্রথমবার শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল

প্রকাশিত: ১৭:২৯, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কক্সবাজারে প্রথমবার শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল

পৃথিবীর দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত—কক্সবাজার, যেখানে প্রতিটি ঢেউ নিয়ে আসে নতুন গল্প, নতুন আনন্দ আর নতুন অভিজ্ঞতা। হলিডে সিজনে লক্ষ লক্ষ পর্যটকের প্রাণের স্পন্দনে এবার কক্সবাজারে উঠবে এক নতুন অভিজ্ঞতার ঢেউ। হোটেল শৈবালের সমুদ্র-সৈকত ও ঝাউবনের বিস্তৃত প্রান্তরে, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন মাসব্যাপী‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। 

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও এর পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠিত এক মিডিয়া ব্রিফিং-এ এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ সামীমুজ্জামান।

কক্সবাজার বাংলাদেশের প্রধানতম পর্যটন গন্তব্য। বিগত বছরগুলোতে এখানে বছরব্যাপী পর্যটকদের আগমনবৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা একেবারেই বৃদ্ধি পায়নি। কক্সবাজারে আগত দেশি ও বিদেশী পর্যটকদের একটি সাধারণ অভিযোগ হলো কক্সবাজারের সমুদ্র উপভোগ করার পর আর কোন activities বা বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে না। 

তাদের মত হলো কক্সবাজারে সন্ধ্যার পরে বিনোদনমূলক activitiesপ্রবর্তন করা। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব প্রদান করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে হোটেল শৈবাল প্রাংগনে ০৩ (তিন) মাসব্যাপী দিনে ও রাত্রে বিভিন্ন কর্মসূচী সম্বলিত পর্যটন কার্নিভাল আয়োজন করা হবে। 

কার্নিভালের মূল আকর্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে: 
ফুড জোন:এখানে থাকছে দেশি-বিদেশি খাবার, লাইভ ফুড স্টল, বারবিকিউ, আইসক্রিম পার্লার ও জুস কর্নার;
মার্কেট জোন ও ক্র্যাফট ভিলেজ: এখানে থাকছে পোশাক, অলংকার, মাটির পণ্য ও স্থানীয় কারিগরদের হাতে তৈরি শিল্প—যেখানে আপনিও অংশ নিতে পারবেন সৃষ্টির অভিজ্ঞতায়;
ওয়েলনেস জোন: থাকছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে যোগব্যায়ামও মেডিটেশন;
কিডস জোনে থাকছে আর্ট, নিরাপদ রাইড ও হরেকরকমের মজার কার্যক্রম;
ক্যাম্পিং জোন: এখানে থাকছে নাইট-স্টে ক্যাম্পিং, ওপেন-স্কাই লাইব্রেরি, সেলফ-বারবিকিউ, হ্যামক, ক্যাম্পফায়ার এবং টেলিস্কোপে তারাভরা আকাশ দেখার অভিজ্ঞতা;
এছাড়া থাকছে লাইভ আর্ট ও ফটো গ্যালারি, ওপেন-স্কাই মুভি থিয়েটার, ভিআর জোন, সার্কাস টেন্ট, কায়াকিং, লাইভ-বাস্কিং, গো-কার্ট, বিচ ফুটবল, বিচ হ্যান্ডবল, বিচ ভলিবল, বিচ কাবাডি, ব্যাডমিন্টন ও স্যান্ড স্কাল্পচার।

বিশেষ দিনের উদযাপন এ থাকছে বিজয় দিবস উদযাপন, হ্যাপি নিউ ইয়ার, হলি ক্রিসমাস; আরও থাকছে বিচ ভিউ ওপেন থিয়েটারেWave of Music—যেখানে প্রিয়জনদের সঙ্গে সমুদ্রের সামনে, সূর্যাস্তের সোনালি আলো আর বাঁশির সুরে হারিয়ে যাওয়ার নতুন অভিজ্ঞতা।

ব্রিফিং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) জনাব মোঃ গনী উল আজম। তিনি ৩ (তিন) মাসব্যাপী অনুষ্ঠেয় কার্নিভালের সকল কর্মসূচী সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীদের অবহিত করেন। 

তিনি বলেন কার্নিভালের বিভিন্ন আয়োজনে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং বৃহত্তর কক্সবাজার অঞ্চলের সম্মানিত সংসদ সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

তিনি বলেন, আমরা শুধু একটি কার্নিভাল আয়োজন করতে চাই না। আমরা চাই, কক্সবাজারের পর্যটন অভিজ্ঞতায় একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হোক। সমুদ্র থাকবে, সূর্যাস্ত থাকবে, ঝাউবন থাকবে—এর সঙ্গে যুক্ত হবে খাবার, সংগীত, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, অ্যাডভেঞ্চার এবং পারিবারিক বিনোদন।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। কার্নিভালটি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাদেকুল আরেফিন ব্রিফিং অনুষ্ঠানে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের একটি রূপরেখা উপস্থাপন করেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ সামীমুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্যকে আরও বৈচিত্রময় ও আকর্ষণীয়ভাবে দেশি ও বিদেশী পর্যটকদের নিকট তুলে ধরতে এই কার্নিভালের আয়োজন। বিশেষ করে বিদেশীদের নিকট কক্সবাজারকে নতুন ও ব্যতিক্রমী উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই আন্তর্জাতিকমানের কার্নিভাল আয়োজন। 

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেল বাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় আয়োজিত এই কার্নিভাল কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতার দ্বার উন্মোচন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন তিন মাসব্যাপী এই আয়োজনের ফলে পর্যটকদের সমুদ্র উপভোগের পাশাপাশি দিন ও রাত্রে বিভিন্ন ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। 

তিনি বলেন কক্সবাজারকেএকটিপ্রাণবন্ত, বৈচিত্র্যময়, নিরাপদ, টেকসই এবং আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করতে এই কার্নিভাল আয়োজন।

মিডিয়া ব্রিফিং অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সম্মানিত পরিচালক, মহাব্যবস্থাপকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীও স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন লি: এর প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত