• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চকবাজারের আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪ কর্মী অসুস্থ

প্রকাশিত: ১২:৫৪, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১২:৫৪, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
চকবাজারের আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪ কর্মী অসুস্থ

ছবি: সংগৃহীত

পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় ইউসুফ খান প্লাজা মার্কেটে আগুন নেভাতে গিয়ে তীব্র ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মী। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে পর্যবেক্ষণে আছেন। অসুস্থ হওয়া চার ফায়ার ফাইটার হলেন, পলাশী ফায়ার স্টেশনের ফায়ারফাইটার মো. জিল্লুর রহমান ও লিডার মো. নজরুল ইসলাম, সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. মারুফ এবং খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের লিডার মো. মাহাফুজুর হক মজুমদার।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, চকবাজার থেকে অসুস্থ অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স টিম ও লাইটিং ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিট কাজ করেছে। অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১৫০ জন কর্মী অংশ নেন। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এখনও আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ চলমান রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ মানুষ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে মাহমুদুল হাসান বলেন, আগুনে ভবনটির ছয়তলায় থাকা গোডাউনগুলো পুড়ে গেছে। ভবনটিতে কসমেটিকস ও ব্যাগসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের গোডাউন রয়েছে। একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা বিভিন্ন কম্পার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের ভেতরে প্রচুর মালামাল মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়।

এর আগে, সোমবার বিকাল ৫টার দিকে চকবাজারের ছোট কাটারায় ইউসুফ খান প্লাজায় আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পর বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত পৌনে ১টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহমুদুল হাসান বলেন, পুরান ঢাকার সরু রাস্তা এবং ভবনের কাঠামোগত অবস্থার কারণে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত ও ভারী গাড়ি ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতে সমস্যা হয়েছে। পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণেও বেগ পেতে হয়।

ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নিজে ভবনের ওপরের অংশে গিয়ে কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখেছি। তবে অন্য কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, দোকানের সংখ্যা এবং আগুনের সূত্রপাতের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: