তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সর্বহারা সদস্যের আত্মসমর্পণ
নতুনের পথে প্রত্যাবর্তনে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ জন চরমপন্থী সর্বহারা সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেছে। রবিবার ১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় অবস্থিত এসআরবি-১২ (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন) সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৫ জন চরমপন্থী সর্বহারা দলের সদস্য অস্ত্র ও অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে আত্মসমর্পণ করে। এদের মধ্যে পাবনার ৪৫ জন, রাজবাড়ীর ১৩ জন ও সিরাজগঞ্জ সিরাজগঞ্জ জেলার ৭ জন।
চরমপন্থী সর্বহারা দলের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি বলেন, কোনো মানুষই জন্ম থেকে চরমপন্থী বা অপরাধী হয়ে জন্মায় না; অনেক সময় সামাজিক বঞ্চনা, অধিকারহীনতা এবং চরম অবহেলা মানুষকে ভুল পথে বা অন্ধকার পথে ঠেলে দেয়। একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হলো এই মানুষগুলোকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা। বর্তমান সরকারের সংস্কার ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার তখনই সফল হবে, যখন সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং সকলেই সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারবে।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, পথভ্রষ্ট এই মানুষদের অন্ধকার জগৎ থেকে আলোতে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করা রাষ্ট্রের একটি মানবিক দায়িত্ব, কোনো দান বা চ্যারিটি নয়।। আত্মসমর্পণকারী এই সদস্যদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মূলধারার সমাজে ফিরিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক প্রণোদনাসহ পুনর্বাসনের জন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এসআরবি ফোর্সেসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এসআরবি ১২ সিরাজগঞ্জের আয়োজনে চরমপন্থী সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসআরবি ১২ সিরাজগঞ্জ সদর দপ্তরের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আতিকুর রহমান মিয়া।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ ৫ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি রাজশাহী বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম খান আলীম,এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ,এসআরবি ফোর্সেসের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্ণেল ইফতেখার আহমেদ,বাংলাদেশ পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাইদ, রাজশাহী বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম ও সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সান্টু এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থী সর্বহারা সদস্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পাবনার আইনুল হক ও সুজানগর উপজেলার মোঃ আলম সেখ।
উল্লেখ্য, এর আগেও দেশের বিভিন্ন সময়ে চরমপন্থিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আত্মসমর্পণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জে শতাধিক চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় ৫৯৬ জন এবং ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে সাত জেলার ৩২৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: