• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

তদন্তের অজুহাতে ৩ মাস রিহ্যাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২১:০২, ৮ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২১:০৩, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
তদন্তের অজুহাতে ৩ মাস রিহ্যাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তের নামে প্রায় তিন মাস ধরে দেশের আবাসন খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক।

রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন। জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে পরিচালিত অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে উঠে আসে রিহ্যাবের কার্যক্রমের স্থবিরতার প্রসঙ্গ। সেই এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান তদন্তের প্রতি রিহ্যাবের পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। তবে তদন্তের অজুহাতে একটি জাতীয় পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠনের নেতৃত্ব, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা কোনোভাবেই কাম্য ও যৌক্তিক নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।

তিনি আরও বলেন, একটি সংগঠনের নেতৃত্ব, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত যদি দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে, তাহলে সেই সংগঠন কীভাবে তার সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা করবে? আমরা মনে করি, তদন্ত চলতে পারে, কিন্তু সে কারণে সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রক ও তদারককারী কর্তৃপক্ষ। রিহ্যাব সবসময় সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। মন্ত্রণালয়ের যেকোনো আইনসংগত নির্দেশনা ও তদন্ত কার্যক্রমে রিহ্যাব সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সংগঠনের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর সংগঠনের একজন পরিচালকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের জন্য রিহ্যাবকে রুটিন কার্যক্রমের বাইরে অন্য কোনো ধরনের সভা ও কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা। এতে সংগঠনটির বোর্ড সভা, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম), আবাসন মেলাসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের বিরুদ্ধে রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষে গত ১ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনার কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। হাইকোর্টের ওই আদেশে রিহ্যাবে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এলে গত ৫ নভেম্বর আবারও রিহ্যাবের একজন পরিচালক হাইকোর্টের ১ নভেম্বরের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করার অনুমতি চান। তবে সেই আবেদন হাইকোর্টে রিফিউজ করে দেন বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্যে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে পরিচালিত অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেলে ক্রেতার অর্থ, জমির মালিকানা, ফ্ল্যাটের আইনগত অধিকার এবং ভবনের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

ইতোমধ্যে এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেলের কারণে প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ১০ হাজার বিচারাধীন মামলার কারণে অনেকে তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই থেকে তিন বছরে শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পসংক্রান্ত মামলা ও আইনি জটিলতায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ. এফ. এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ, পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া মজুমদার, প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল, এ.জেড.এম. কামরুদ্দিন, প্রফেসর ফারুক আহমদ, মো. জহির আহমেদ, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, শেখ কামাল, এম. ফখরুল ইসলাম ও এ. এস. এম. আব্দুল গাফফার মিয়াজী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কমিটির সদস্য ইঞ্জি. সঞ্জয় চক্রবর্তী এবং রিহ্যাব সদস্য শফিকুল ইসলাম বাদল।

বিভি/কেএস/পিএইচ

মন্তব্য করুন: