• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চট্টগ্রামকে ক্রীড়ার শহরে রূপ দিতে সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ

প্রকাশিত: ২৩:১৮, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
চট্টগ্রামকে ক্রীড়ার শহরে রূপ দিতে সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ

চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা। “ফিউচার অফ স্পোর্টস ইন চট্টগ্রাম” শীর্ষক এই আয়োজনটি রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় নগরের শহীদ ফজলুর রহমান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষক ও ক্রীড়ানুরাগী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আলোচনা সভার সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও চট্টগ্রামের অন্যতম গর্ব তামিম ইকবাল। পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ক্রীড়া সংগঠক সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর।

আলোচনার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ইসরাফিল খসরু। তিনি চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নের পথে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে আধুনিক ক্রীড়া নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক মো. হাফিজুর রহমান, মশিউর রহমান স্বপন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন, শাহাবুদ্দীন জাহাঙ্গীর, আমিনুল ইসলামসহ আরও অনেকে। এছাড়া চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শোয়েব, শিক্ষার্থী রহমতুল ইসলাম সোহেল, জাতীয় ক্রিকেটার ইমরুল করিম ও জাতীয় সাঁতারু নুজহাত জাহানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের মতামত তুলে ধরেন।

বক্তারা চট্টগ্রামের ক্রীড়া অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, খেলোয়াড় তৈরির উপযুক্ত পরিবেশের অভাব এবং জাতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তারা সম্ভাবনাময় দিকগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

প্রধান আলোচক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের ক্রীড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার মতে, আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় গড়ে তুলতে আধুনিক অবকাঠামো, মানসম্মত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং খেলোয়াড়বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও জানান, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে আসন্ন নির্বাচনের ইশতেহারেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ক্রীড়া সংগঠন, প্রশাসন ও খেলোয়াড়দের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সঞ্চালক তামিম ইকবাল তার বক্তব্যে বলেন, একসময় চট্টগ্রাম ছিল দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকেই উঠে এসেছে অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ধারাবাহিকতায় ভাটা পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সংগঠক, কোচ, খেলোয়াড় ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলে মত দেন তামিম। তার বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আবারও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দেন এবং তরুণদের ক্রীড়ার প্রতি আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতিশীল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই বলেও মত দেন তারা।

উল্লেখ্য, আলোচনা সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কোচ, খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: