মিরপুরে টাইগারদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতেছে ক্যারিবীয়রা
উইকেটের পতন ঘটলেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া বাংলাদেশ ক্রিকেটের পুরোনো ও জিইয়ে থাকা এক রোগ। দলের বিপর্যয় রোধ করে হাল ধরার মতো যেন কেউ নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আরও একবার সেই চেনা ব্যাটিং ধসের কবলে পড়েছে স্বাগতিক দল। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫৩ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলেছে ৬টি উইকেট। প্রথম ইনিংস শেষে সামান্য লিড পেলেও এখন ম্যাচ হারের জোরালো শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সময়টা ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশের। এশিয়ান গেমসের ব্যর্থতার পর ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষেও সুবিধা করতে পারেনি টাইগাররা। সীমিত ওভারের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার মূল কারণ ব্যাটারদের খামখেয়ালিপনা ও বারবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি। ব্যর্থতার দায়ে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে সরিয়ে দিয়ে সম্প্রতি দেশি কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনা হলেও ব্যাটিংয়ের এই গভীর রোগ সারানো সম্ভব হয়নি। শঙ্কা জাগানিয়া বিষয় হলো, সীমিত ওভারের গণ্ডি পেরিয়ে সেই ব্যাটিং রোগ এবার হানা দিয়েছে টেস্ট ক্রিকেটেও। চলতি মৌসুমে টেস্টে তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিরপুরের চেনা উইকেটে স্পিন-বান্ধব পিচ বানিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার পরিকল্পনা থাকলেও নিজেদের পাতা ফাঁদেই যেন ফেঁসে গেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ কোনোমতে ২৭২ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজও বেশিদূর এগোতে পারেনি; ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। এই ইনিংসে বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখান স্পিনার নাঈম হাসান। মিরপুরের উইকেটে মাত্র ১০ বল করার সুযোগ পেয়েই ৩৩ রানে ৪ উইকেট শিকার করে দলের সফলতম বোলার হন তিনি। নাঈমের ঘূর্ণিতেই মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে শেষ ৪ উইকেটের পতন ঘটে ক্যারিবীয়দের।
মাত্র ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ১ রানে শামার জোসেফের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান ইসলাম প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ইনিংসের ১১তম ওভারে ফের হোঁচট খায় দল। মাত্র তিন বলের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন সাদমান ও তাওহিদ হৃদয়। ৩০ বলে ১৩ রান করা সাদমানকে বোল্ড করেন রোস্টন চেজ। ঠিক পরের ওভারেই বড় শট খেলতে গিয়ে দায়িত্বহীনভাবে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাওহিদ হৃদয়।
সাদমান-হৃদয়কে হারানোর ধাক্কা কাটতে না কাটতেই চেজের শিকার হন অধিনায়ক শান্তও (৩৭ বলে ১০)। চেজের সোজা বলটি ডিফেন্ড করতে গিয়ে লাইন মিস করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি; রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। এরপর লিটন দাসও থিতু হতে পারেননি। ওয়ারিক্যানের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এর আগে ফিল্ডিং করার সময় মাথায় আঘাত পেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক; তার কনকাশন সাব হিসেবে মাঠে নেমেছেন জাকের আলী অনিক।
দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত ৬ উইকেট হারিয়ে দল যখন চরম বিপদে, তখন উইকেটে আছেন কনকাশন সাব জাকের আলী ও প্রথম ইনিংসে সফল বোলার নাঈম হাসান। এই জুটির ওপরই এখন দলের বাকি অংশের ভাগ্য নির্ভর করছে। স্বস্তির বিষয় হলো, এরই মধ্যে বাংলাদেশের লিড একশ রান পার হয়েছে (যা এক পর্যায়ে শঙ্কার মুখে ছিল)। এমতাবস্থায় টানা তৃতীয় দিন আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা আগেভাগেই শেষ হয়েছে ।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: