ব্যর্থ মিরাজ-তাইজুলদের অস্ত্র, হেসে-খেলে জিতলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ব্যাট হাতে ছোট পুঁজি, বল হাতেও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে ব্যর্থ বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোনো বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেনি টাইগাররা। বিশেষ করে স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণি কাজে আসেনি। ফলে মাত্র ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটের অনায়াস জয় তুলে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। চতুর্থ দিনেই শেষ হয়েছে ঢাকা টেস্ট। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ম্যাচ জিততে হলে শুরুতেই ক্যারিবীয়দের ৪-৫টি উইকেট তুলে নেওয়া প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বোলারদের ব্যর্থতায় প্রথম উইকেটের দেখা পেতেই স্কোরবোর্ডে শতরান পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।
২১তম ওভারে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে জন ক্যাম্পবেলের লেগ স্টাম্প ভেঙে গেলে উইকেটের খরা কাটে বাংলাদেশের। তবে ততক্ষণে ১১২ রানের শক্ত ভিত গড়ে ফেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যাম্পবেলকে ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থামানোই ছিল বাংলাদেশের বোলারদের প্রাপ্তি। ৫৫ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
অন্য প্রান্তে তখন ফিফটির অপেক্ষায় ব্র্যান্ডন কিং। অথচ এর আগেই আউট হতে পারতেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ব্যক্তিগত ৪৪ রানের মাথায় দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে সহজ ক্যাচ দিয়েও জীবন পান তিনি। বল চলে যায় সীমানার বাইরে। পরের বলেই আবার চার মেরে ৬৮ বলে ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন কিং।
ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুলে চোট পান শান্ত। ফলে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। এ সময় কিছুক্ষণের জন্য দলের নেতৃত্ব দেন সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
এর কিছুক্ষণ পর ৮ রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের বলে তেজনারায়ণ চন্দরপল ১ রান করে তাইজুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তবে তাতে পরাজয় কেবল কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়েছে।
এরপর ক্রিজে এসে ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করেন কাভেম হজ। ৩৬তম ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন ব্র্যান্ডন কিং। ১১৫ বলে ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্যদিকে হজ অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৩১ রান করে। ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ১৭০ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ক্যারিবীয়রা।
এর আগে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে। আগের দিন ১৮ রানে অপরাজিত থাকা নাঈম হাসান দেখান দারুণ দৃঢ়তা। তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট অর্ধশতক। তাঁর লড়াকু ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস কোনোমতে ১৪২ রান পর্যন্ত পৌঁছায়। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৭০ রান।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: