• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বই পড়ে পুরস্কার পেলো ঢাকা মহানগরের স্কুল পর্যায়ের ৫ হাজার ৮২৩ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: ১৫:২৬, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৫:২৬, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বই পড়ে পুরস্কার পেলো ঢাকা মহানগরের স্কুল পর্যায়ের ৫ হাজার ৮২৩ শিক্ষার্থী

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসব। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এই উৎসব হয়। উৎসবে ঢাকা মহানগরের ৭১টি স্কুলের মোট পাঁচ হাজার ৮২৩ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচিতে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। 

পুরস্কার বিতরণ উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব জনাব মোহা. হারুন-অর-রশিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. আবদুন নূর তুষার, গ্রামীণফোন লিমিটেডের চিফ টেকনোলজি অফিসার জনাব আবুল কাশেম মহিউদ্দিন আল-আমিন এবং প্রাক্তন সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক জনাব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের শুভ সূচনা হয়। এরপর সম্মানিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখি, তার প্রতিফলন আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি। পড়াশোনা, মানসিক চাপ এবং হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও বই পড়ার চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে তিনি জানান, ভালো বই পড়ে এবং ইন্টারনেটের গঠনমূলক ব্যবহারই পারে বাচ্চাদেরকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। বইপড়া কর্মসূচির এই মহতী কার্যক্রম এবং ইন্টারনেটের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি যৌথভাবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. আবদুন নূর তুষার বলেন বই আমাদের এক প্রজন্মের সাথে পরবর্তী প্রজন্মকে যুক্ত করে। ‘নটিলাস’ ডুবোজাহাজ সম্পর্কে যখন বই লেখা হয় তখন সেটি ছিল শুধু কল্পনা। বইয়ের মধ্যে থাকা সেই ভাবনাই পরবর্তীতে আসল ডুবোজাহাজ ‘নটিলাস’ তৈরি করেছে। অর্থাৎ এক প্রজন্ম যা চিন্তা করে রেখে গেছেন পরবর্তী প্রজন্ম সেখান থেকে শুরু করেন। সেজন্য আমাদেরকে বেশি বেশি বই পড়তে হবে, পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমাদের ভাবনা লিখে যেতে হবে। তবেই মানব সভ্যতার উন্নতি সম্ভব হবে।

গ্রামীণফোন লিমিটেডের চিফ টেকনোলজি অফিসার জনাব আবুল কাশেম মহিউদ্দিন আল-আমিন বলেন, তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মাঝে মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে গত দুই দশক ধরে গ্রামীণফোন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই মহতী উদ্যোগের সহযাত্রী ও অংশীদার।” আলোকিত প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে তিনি বইপড়ার পাশাপাশি অভিভাবক ও শিশু-কিশোরদের নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক বিষয়ে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। মহিউদ্দীন আল-আমীন আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিনিয়ত আমাদের নতুন নতুন তথ্য জানতে হয়, আর এজন্য বিভিন্ন রকমের বই পড়া অত্যন্ত জরুরি। আর তাই, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন এক সমাজে বর্তমানে বাস করছি, যেখানে মনুষ্যত্ব অনেকটাই কমে যাচ্ছে। ছোট বয়স থেকেই তাই ভালো ভালো বই পড়ার মাধ্যমে বাচ্চাদের মূল্যবোধ বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে প্রাক্তন সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক জনাব খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান এই আনন্দঘন আয়োজনে সম্মানিত অতিথি এবং উপস্থিত সুধীজনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, বইকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা যেমন কৃতজ্ঞতার দাবিদার, অভিভাবকরাও সমান দাবিদার। বই পড়ার উপকারিতা বোঝাতে আসাদুজ্জামান বলেন, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য পড়লে মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে, ভাষা দক্ষতা বাড়ে, বোঝার ক্ষমতা বাড়ে, নিজের ভাষায় সৃজনশীল লেখা সহজ হয়। বছরব্যাপী এই বহুল প্রত্যাশিত বইপড়া কর্মসূচিকে সফল করে তুলতে যে সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক নিরলসভাবে কাজ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, এই আয়োজনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য গ্রামীণফোন-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং বই পড়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মননশীল ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার এই অভিযাত্রায় আগামীতেও গ্রামীণফোনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেন।

উল্লেখ্য, প্রতিটি স্কুলের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা পুরস্কার, অভিনন্দন পুরস্কার ও সেরা পাঠক পুরস্কার—এই তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ঢাকা মহানগরের দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে ৭১টি স্কুলের মোট পাঁচ হাজার ৮২৩ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হবে। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে চার হাজার ২৮৮ জন ‘শুভেচ্ছা’, এক হাজার ৩৬৭ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ১৬৮ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করেছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক হাজার ১৮ জন ছেলে এবং চার হাজার ৮০৫ জন মেয়ে।

এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়।

দিনব্যাপী উৎসবের বিশাল আয়োজন ও পুরস্কারের বই স্পন্সর করছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: