• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

খেলাধুলা শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দেশপ্রেম শেখায়: কাদের গনি চৌধুরী

প্রকাশিত: ২০:৫৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
খেলাধুলা শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দেশপ্রেম শেখায়: কাদের গনি চৌধুরী

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, খেলাধুলা মানুষকে শারীরিক ও মানসিক শক্তি জোগায়। এছাড়াও এটি শৃঙ্খলা, আনুগত্য এবং দেশপ্রেম শেখায়। খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন; ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল’- এই চিরন্তন বাক্যগুলো আমাদের খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দেয়। অথচ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি আমরা বরাবরই উপেক্ষা করে আসছি। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মনও ভালো থাকে। সুস্থ দেহ ও মন কাজের প্রতি আগ্রহ এবং কার্যকারিতা বাড়ায়। আর দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন খেলাধুলা। খেলাধুলার মাধ্যমে একজন মানুষ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার পাশাপাশি ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের গুণও অর্জন করে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হোটেল ইম্পেরিয়াল মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন খোকন শিকদার, সভাপতিত্ব করেন সংস্থার সভাপতি একেএম মহসিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক এবিএম রফিকুর রহমান, মশিউর রহমান সুমন, সজল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, শিশুর বিকাশের মূল ভিত্তি হলো খেলাধুলা। খেলাধুলা শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়তা করে, সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তিও বৃদ্ধি করে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন শিশুদের খেলার মাঠে খুব একটা দেখা যায় না। সকাল বেলাতেই ছেলেমেয়েরা একগাদা বই কাঁধে নিয়ে বা কোচিং সেন্টারে ছুটে যায়। সারা দিন ক্লাস শেষের পরও ঘরে ফেরে বা প্রাইভেট কোচিংয়ে যায়। ফলে অনেকের কপালে খেলার সুযোগও জোটে না।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের শিশুদের একটি বড় অংশ পড়াশোনার চাপে খেলার মাঠে যেতে পারে না। অনেকে খেলাধুলাকে পাশ কাটিয়ে চলে। মনে হয়, খেলাধুলা করলে কী হবে! তার চেয়ে মোবাইলে গেম খেলা বা টেলিভিশন দেখা বেশি আকর্ষণীয়। এর ফলে স্মার্টফোন ও প্রযুক্তি আমাদের আগামী প্রজন্মকে গ্রাস করছে।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আমরা স্কুল থেকে ফিরে বই রেখে খেলার মাঠে ছুটে যেতাম। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডিসহ নানা খেলাই চলত সমান্তরালভাবে। পরীক্ষার সময়ও খেলা কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। বরং খেলায় অনীহী ছেলেমেয়েরা পিছিয়ে পড়তে দেখা গেছে। ছোটবেলায় প্রতিটি স্কুল-কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হত। আশপাশের মানুষজনও ছেলেমেয়েদের খেলার দৃশ্য দেখতে ছুটে আসত। এখন শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের আয়োজন কমেছে। স্কুলে খেলার মাঠও নেই। ফলে কিভাবে দেশ থেকে পেলে, ম্যারাডোনা, রোনাল্ডো, নেইমার বা মেসির মতো খেলোয়াড় জন্মাবে?

তিনি আরও বলেন, একসময় মানুষ বলত, খেলার মাঠ কমছে। এখন বলতে পারি, খেলার মাঠ খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রতিটি খালি জায়গা দালানকোঠায় রূপান্তরিত হয়েছে। জনসংখ্যা বাড়ছে, শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। ভবিষ্যতে তারা কোথায় খেলবে? বর্তমান সময়ে ছোট গলির ভেতর ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা হয়। মাঠ ছোট হলে খেলাধুলার ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও শিশুদের খেলার সুযোগ নেই। নতুন স্টেডিয়াম হচ্ছে, কিন্তু তা শুধু জাতীয় দলের জন্য। শিশু, যুবক ও তরুণদের জন্য নয়। এতে করে খেলাধুলার আগ্রহ মরে যাচ্ছে। যাদের খেলার সুযোগ নেই, তারা ফেসবুক, ভিডিও গেম বা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, খেলাধুলা শুধু শিশুদের জন্য নয়, বড়দের জন্যও সমান প্রয়োজন। পরিবারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে খেলাধুলার জন্য সময় বের করতে হবে। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট খেলার সময় রাখা উচিত। খেলাকে বাধ্যবাধকতা নয়, শখ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে খেলাধুলা পারিবারিক সম্পর্কও দৃঢ় করে এবং সময়টাকে আনন্দময় করে তোলে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শারীরিক শিক্ষা বিষয়টি পুনঃপ্রচলিত করতে হবে, কলেজ পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষকদের প্রভাষক পদে উন্নীত করা উচিত এবং মাঠের অভাব পূরণে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: