সুন্দরবন দিবসে ‘সুন্দরবন সামিট’ ঘোষণা, আয়োজন ২৩-২৫ এপ্রিল
সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে দেশের শীর্ষ পরিবেশ ও গবেষণা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ঘোষণা করা হয়েছে ‘সুন্দরবন সামিট ২০২৬’। আয়োজকরা জানান, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং সম্মিলিত জলবায়ু উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে এই আয়োজন একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আগামী ২৩ থেকে ২৫ এপ্রিল ২০২৬ খুলনা ও সুন্দরবনে অনুষ্ঠিতব্য এই সামিটে নীতিনির্ধারক, গবেষক, তরুণ পরিবেশকর্মী ও নেতা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, ডেভেলপমেন্ট পার্টনার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
সুন্দরবন রক্ষায় স্থানীয় কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এ আয়োজন করছে Mission Green Bangladesh (এমজিবি), BRAC University-এর সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিসিসিইআর), স্বপ্নপুরী কল্যাণ সংস্থা এবং Waterkeepers Bangladesh। সামিটের মূল লক্ষ্য হলো সুন্দরবন এবং এর ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় নীতি-সংলাপ, উদ্ভাবন, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক সংরক্ষণ উদ্যোগকে শক্তিশালী করা।
উদ্যোগটি ঘোষণা করে মিশন গ্রিন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন,
“সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং এটি প্রতিনিয়ত বাংলাদেশকে রক্ষা করছে। নিজেদের বাঁচাতে হলে আমাদের সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। তাই সুন্দরবন সামিট শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি আন্দোলন। যারা সুন্দরবন নিয়ে কাজ করছেন বা করতে চান, সবাইকে একসঙ্গে এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।”
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিসিইআর-এর ডেপুটি ডিরেক্টর রাউফা খানম বলেন,
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় নেচার-বেইজড সল্যুশন নিয়ে কাজ করছি। এই সামিট আমাদের কাজ তুলে ধরার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে এবং সুন্দরবন, এর মানুষ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণে সম্মিলিত একটি আন্দোলন গড়ে তুলবে।”
স্বপ্নপুরী কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ হাসান বলেন, টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, তরুণ সমাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
‘সুন্দরবন সামিট ২০২৬’-এ উচ্চপর্যায়ের নীতি-সংলাপ, তরুণদের জন্য ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ, সংরক্ষণবিষয়ক আলোচনা, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা কার্যক্রম এবং সুন্দরবনে সরেজমিন অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামিট থেকে একটি ‘সুন্দরবন গ্রিন ডিক্লারেশন’ ঘোষণা, জলবায়ু-সহনশীল উদ্ভাবনকে সহায়তা, সংরক্ষণ নেটওয়ার্ক জোরদার এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুন্দরবনের গুরুত্ব আরও তুলে ধরার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সামিটে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করা যাবে এই লিংকে:
https://forms.gle/HSkZ9oAvAxRx2mXu7
আয়োজকরা অংশীদার, সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক, গণমাধ্যম ও বৈশ্বিক অংশীজনদের এই উদ্যোগে যুক্ত হয়ে সুন্দরবনের টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: