• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বাবার আদেশে ৫০ বছর ধরে একসঙ্গে ৬ ভাইয়ের পরিবার; সুখ-দুঃখও হয় ভাগাভাগি

হারুন আনসারী, ফরিদপুর

প্রকাশিত: ১৭:১৯, ৪ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৭:১৯, ৪ আগস্ট ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বাবার আদেশে ৫০ বছর ধরে একসঙ্গে ৬ ভাইয়ের পরিবার; সুখ-দুঃখও হয় ভাগাভাগি

চার যুগেরও বেশি সময় ধরে একসঙ্গেই চলছে ৬ ভাইয়ের সংসার। প্রয়াত বাবার শেষ নির্দেশ- ভাইয়ে ভাইয়ে কখনো আলাদা হওয়া যাবে না। এই কথাকেই জীবনের শপথ বানিয়ে টানা ৫০ বছর ধরে এক ছাদের নিচে, একই হাঁড়ির রান্না আর এক ব্যবসায় টিকে আছে ছয় ভাইয়ের সংসার।

বলছিলাম ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঠাকুরপুর গ্রামের পাল পরিবারের কথা। প্রয়াত ষষ্ঠী চরণ পালের ছয় ছেলে বাবার শেষ ইচ্ছাকেই জীবনের নিয়ম বানিয়ে আজও একসঙ্গে বসবাস করছেন।

৩০ সদস্যের একান্নবর্তী এই পরিবার একই ছাদের নিচে বাস; এমনকি প্রতিদিন একই হাঁড়িতে রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন। শুধু সংসার নয়, বাবার রেখে যাওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও যৌথভাবেই পরিচালনা করছেন তারা।

একসময় মাটির হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করে সংসার চালাতেন ষষ্ঠী চরণ পাল। প্রায় ৫০ বছর আগে বোয়ালমারী বাজারে স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠা করেন ছোট্ট একটি মুদি দোকান- 'মহামায়া ভাণ্ডার'। ১৯৯৭ সালে মৃত্যুর আগে ছেলেদের একটাই নির্দেশ দিয়ে যান ষষ্ঠী চরণ- সংসার আর ব্যবসা কখনো ভাগ করা যাবে না। বাবার সেই আদর্শ আঁকড়ে ধরেই গোবিন্দ, বিমল, অমলসহ ছয় ভাই আজও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

জরাজীর্ণ ছোট্ট সেই দোকান এখন পরিণত হয়েছে সুপরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। প্রতিদিন একজনের মতো আরেকজন দোকানের দায়িত্ব পালন করেন, আবার সংসারের সব সিদ্ধান্তও নেন মিলেমিশে। পরিবারের আয়-ব্যয়, সুখ-দুঃখও ভাগাভাগি হয় সমানভাবে।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যখন হারিয়ে যেতে বসেছে যৌথ পরিবারতন্ত্র, তখন পাল পরিবারের এই বন্ধন নতুন প্রজন্মের কাছেও হয়ে উঠছে অনুকরণীয়। তাদের বিশ্বাস, সম্পদের চেয়ে সম্পর্ক বড়, আর এই সম্পর্কই আগলে রেখেছে ভাইদের পাঁচ দশকের এই ঐক্য।

অর্থ কিংবা সম্পদ নয়, পারিবারিক বন্ধনই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি- ফরিদপুরের এই ছয় ভাই যেন বছরের পর বছর সেটিই প্রমাণ করে চলেছেন। বাবার রেখে যাওয়া আদর্শ বুকে ধারণ করে ভবিষ্যতেও একই ছাদের নিচে, একই ভালোবাসায় পথ চলতে চান তারা। আর তাদের হাত ধরেই আজও টিকে আছে বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য একান্নবর্তী পরিবার। 

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত