কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে মুচমুচে বিস্কুট! অবাক করা স্বাদে মজেছে সবাই
কাঁঠাল খেতে গিয়ে আর নাক সিঁটকানো লাগবে না। বরং জমিয়ে খাওয়ার জন্যই এবার কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট। কাঁঠালের তৈরি মুচমুচে বিস্কুট চায়ের কাপে ভিজিয়ে খাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন আব্দুস সাত্তার। হাতে আঠা লাগার ভয়, কিংবা তীব্র গন্ধের অজুহাত—ফলের রাজা কাঁঠালকে যারা এতদিন এভাবেই দূরে ঠেলে দিয়েছেন, সেই চিরচেনা রূপ বদলে এবার তা রূপ নিয়েছে মজার স্বাদের বিস্কুটে। জিভে জল আনা স্বাদ আর পুষ্টিতে দেশেই তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এই কাঁঠাল বিস্কুট।
প্রতিবছর বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ গাজীপুরের বাগানগুলোতে শোভা পায় হাজার হাজার কাঁঠাল। সঠিক সংরক্ষণ ও বিপণনের অভাবে যার বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। সেই অপচয় কমাতেই কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করে নতুন খাদ্যপণ্য তৈরির উদ্যোগ নেন শ্রীপুরের উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া।
প্রথমে পাকা কাঁঠাল থেকে কোষ বের করে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কাঁঠালের রসের সঙ্গে ঘি, বাটার, দুধ, ময়দাসহ বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করা হয় বিস্কুট। নেই কোনো কৃত্রিম ফ্লেভার। কাঁঠালের স্বাদ আর পুষ্টি ধরে রাখার চেষ্টা রয়েছে পুরো প্রক্রিয়ায়।
চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশ ঘুরে কাঁঠাল থেকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তৈরির ধারণা নেন এই উদ্যোক্তা। এরপর শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বাজারে আসার পর অনলাইনেও কাঁঠালের বিস্কুট নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ভবিষ্যতে কাঁঠালের চিপসসহ আরও খাদ্যপণ্য তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তার।
কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি কমবে ফলের অপচয়। এমন উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা।
যে কাঁঠালের আঠায় হাত ছাড়াতে কষ্ট হয় সেই কাঁঠাল দিয়েই এখন তৈরি হচ্ছে মজাদার বিস্কুট। অর্থাৎ জাতীয় ফল এবার নতুন রূপে হাজির হচ্ছে চায়ের কাপের সঙ্গী হয়ে!
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: