জনসচেতনতা ছাড়া নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, সরকার যতই শক্তিশালী হোক না কেন, দেশের মানুষ নিজেদের শহরের রক্ষণাবেক্ষণে অংশগ্রহণ না করলে কোনো সরকারের পক্ষেই নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। নিজেদের ও পরবর্তী প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের লোহারপুল খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠে নেমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। আগামী তিন মাস এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলবে।
সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার জনসংখ্যার তুলনায় তাঁদের সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। বাড়ির আঙিনা, বাসার সামনের রাস্তা ও বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এই দেশ, এই শহর, এই নগর, এই রাস্তা—এগুলো তো আমাদেরই। এখানে যদি আমরা নোংরা, ময়লা-আবর্জনা ফেলি, তাহলে দিনে দিনে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে জটিল রোগের সংক্রমণ হচ্ছে। ফুসফুসজনিত রোগ বলেন, ডেঙ্গু বা মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ বলেন—নানা রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।’
তিনি নগরবাসীকে যথাযথ স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান জানান। একটু কষ্ট করে হলেও বাসায় কিছুক্ষণ ময়লা রাখার পর ময়লার গাড়ি এলে সেখানে ফেলার অনুরোধ করেন তিনি। রাস্তা অথবা খালের পাশে ময়লা না ফেলতেও এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘একটা দেশের সরকার যতই শক্তিশালী হয়ে যাক না কেন, সেই দেশের মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেরা তাদের শহরের রক্ষণাবেক্ষণে অংশগ্রহণ না করছে, কোনো সরকারের পক্ষেই যত লোকই থাক না কেন, এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।’
পরবর্তী প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুরাও বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বাসাবাড়ি বা দোকানপাটের আবর্জনা রাস্তায় যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
লোহারপুল খালের বর্তমান অবস্থা দেখে এখানে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তিন মাসের কর্মসূচির আওতায় তিন মাসের মধ্যে এই খালের চেহারা পাল্টে ফেলতে চান তিনি।
খালের চারপাশ উঁচু করে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, অনেকে এখানে সন্ধ্যা ও সকালে হাঁটেন। মা-বোনেরা যাতে নিরাপদে হাঁটাচলা করতে পারেন, সে জন্য পর্যাপ্ত লাইট, সিসিটিভি ও দুই পাশে হাঁটার রাস্তা থাকবে। পাশাপাশি সুন্দর গাছ লাগানো হবে এবং কোনো ময়লা-আবর্জনা থাকবে না।
তিনি বলেন, ‘এই কাজটা আমি পর্যায়ক্রমে অবশ্যই আপনাদের কাছে কথা দিয়ে যাচ্ছি—এটা আমি করব। করব, ইনশাআল্লাহ।’
সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, শহর ও নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজেদের সচেতন হওয়াই মূলমন্ত্র। উন্নত ও বসবাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।













মন্তব্য করুন: