• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

বন্ধ কক্ষে সাবেক শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ, গন্ধ পেয়ে উদ্ধার করলো পুলিশ

বরিশাল ব্যুরো  

প্রকাশিত: ১৫:২০, ১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৫:২৪, ১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বন্ধ কক্ষে সাবেক শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ, গন্ধ পেয়ে উদ্ধার করলো পুলিশ

বরিশাল নগরীর ভাটিখানা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাবেক স্কুল শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  

মৃত আমেনা খানম (৬৫) বরিশালের হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা। তিনি মৃত মশারফ হোসেনের স্ত্রী। আমেনা নগরীর ভাটিখানার রোকেয়া-আজিম সড়কের খালপাড় এলাকার ভাড়া বাসায় একা বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে দেশের দুই স্থানে চাকরিরত।

স্থানীয়রা ও বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, এক বছর আগে আমেনা খানম তার বাসার দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। তিনি ওই বাসায় একা থাকতেন। হঠাৎ করে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে পাশের ভাড়াটিয়া আমেনার রুম থেকে গন্ধ পান। বিষয়টি বাড়িওয়ালা এবং আমেনার বড় ছেলেকে অবহিত করেন। এরপর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে আমেনার আত্মীয়-স্বজন বাড়িওয়ালার বাড়িতে এসে আমেনার ফ্ল্যাটের সামনে যান। সেখানে যাওয়ার সাথে সাথে দুর্গন্ধে তারা অতিষ্ঠ হয়ে নিচে নেমে আসেন। এরপর বড় ছেলে ঢাকায় ব্যাংকে কর্মরত রিফাতকে বিষয়টি জানানো হয়। রিফাত বাড়িওয়ালাকে অবহিত করেন যতো রাত হোক তিনি রওনা দিয়েছেন তাকে না ঘুমানোর জন্য অনুরোধ জানান। ভোর রাতে পুলিশ নিয়ে রিফাত ওই ভবনে আসেন। এরপর পুলিশ বাড়িওয়ালা ও অপর ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের নিয়ে রিফাতের কাছে থাকা চাবি দিয়ে তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। 

বাড়িওয়ালা বলেন, বাসার ভিতরে মালামাল এলোমেলো ছিলো। যেখানে আমিনা ঘুমাতেন সে খাটের ওপর তার হাত-পা বাধা মুখে কাপড় ঢুকানো ছিলো। পুলিশ এবং তার ধারণা শ্বাসরোধ তাকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় আমেনাকে। 

সকলের মাঝে একটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ঘটনায় আমেনার পরিবারের ভিতর থেকে কারও জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তালাটা বাহির থেকে দেওয়া ছিল। ‌তালা খুলেই ভিতরে ঢোকা হয়। যে এ কাজটি করেছে আমেনার সে পরিচিত এবং ঘনিষ্ঠ এটা নিশ্চিত।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানিয়েছেন, ছেলের কাছ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দেখতে পায় ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। পুলিশ তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় আমেনা খানমকে কাপড় দিয়ে হাত পা বাধা অবস্থায় মরদেহটি খাটের উপরে দেখতে পায় পুলিশ। মরদেহটির কক্ষ থেকে গন্ধ ছড়িয়ে পরে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনার সাথে যে বা যারা জড়িত তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। 

উপ-পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, তালাটা বাইরে থেকে দেওয়ার কারণে নিহতের পরিবারের স্বজন এবং তার পরিচিতদের প্রতি সন্দেহ বাড়ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে চিহ্নিত এবং আটক করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত