গালমন্দ করায় গৃহকর্তার শতবর্ষী মাকে হত্যা, যুবকের সর্বোচ্চ সাজা
কাজে অবহেলার অভিযোগে গালমন্দ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে গৃহকর্তার প্রায় শতবর্ষী মাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে মো. বাদল ওরফে বাবু (২৫) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাদল জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার রৌহা গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। নিহত শতবর্ষী বৃদ্ধার নাম আহাতন বেওয়া। তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা গ্রামের মুদি দোকানদার সেহাব উদ্দিনের মা।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, আসামি বাদল ভূঞাপুরের ফলদা বাজারের দোকানদার সেহাব উদ্দিনের দোকান ও বাসায় কাজ করতেন। ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর সকালে দোকানে কাজের বিষয়ে সেহাব উদ্দিন বাদলকে ‘পাগলের বাচ্চা’ বলে গালমন্দ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাদল কাজ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেহাব উদ্দিনের বাসায় গিয়ে কাউকে না পেয়ে সিঁড়ির গোড়ায় থাকা একটি বটি নিয়ে তার বৃদ্ধা মা আহাতন বেওয়াকে হত্যা করেন বাদল। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি মোবাইল ফোন ও ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে ইব্রাহিমাবাদ (বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব) রেলস্টেশনে চলে যান।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ইব্রাহিমাবাদ রেলস্টেশন থেকে ঢাকাগামী ‘চিত্রা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের টিকিটসহ বাদলকে গ্রেপ্তার করে।
পিপি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাদল জানান, গৃহকর্তার ওপর ক্ষোভের জেরেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত বাদলকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: