যৌতুকের জন্য স্ত্রী-সন্তানকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
যৌতুকের দাবি না মানায় স্ত্রী ও কোলের শিশু সন্তানের শরীরে বার্নিশ ও তারপিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী মো. রাকিবুল হাসান রাকিবকে (২৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আইনের অপর ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুটি সাজা একই সাথে চলবে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ. ন. ম. ইলিয়াস এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত রাকিব মির্জাপুর উপজেলার তেলিনা উত্তরপাড়া গ্রামের মো. আকবর আলীর ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওমারাও খান দিপু জানান, বিয়ের পর থেকেই পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী কনা আক্তার ইতির (২১) ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন রাকিব। বাধ্য হয়ে কনা ১৮ মাসের সন্তান মোহাম্মদকে নিয়ে বাবার বাড়ি মির্জাপুরের আজগানা গ্রামে চলে যান। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর বিকালে রাকিব শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রী ও শিশু সন্তানের শরীরে বার্নিশ ও তারপিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনে কনার মুখমণ্ডল, বুক, পিঠ ও হাত এবং শিশুর কপাল ও পা মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দেন। বিচারক রায়ে নির্দেশ দেন, জরিমানার প্রাপ্ত অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভুক্তভোগী স্ত্রী ও তার সন্তান পাবেন।
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: