• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকা করতে আমদানির দাবি, সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৪, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকা করতে আমদানির দাবি, সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

দেশে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনতে জীবিত গরু ও প্যাকেটজাত হালাল মাংস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। এতে গরুর মাংসের বাজারমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে আমদানির সুযোগ তৈরি এবং শুল্ক যৌক্তিকীকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নোটিশের প্রাপক হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে রাখা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা হওয়ায় দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইনজীবীর নোটিশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’ তুলে ধরে বলা হয়েছে, যে দেশে কোনো পণ্য তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করা সম্ভব, সেখান থেকে আমদানি করলে ভোক্তারা কম দামে পণ্যটি পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রফতানির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত চারণভূমির অভাব, পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য এবং গবাদিপশু পালনের সামগ্রিক ব্যয়ের কারণে গরুর মাংস উৎপাদনে খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে, কিছু দেশে বিস্তৃত চারণভূমি ও বৃহৎ পরিসরে পশু পালনের সুযোগ থাকায় তুলনামূলক কম খরচে গবাদিপশু ও মাংস উৎপাদন সম্ভব।

আইনজীবীর দাবি, এসব দেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত বা শীতলীকৃত মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি আমদানি শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে আনা গেলে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, খাদ্যসহ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ছাড়া ১৮(১) অনুচ্ছেদে জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবনের অধিকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নোটিশে পুষ্টিকর খাদ্যপ্রাপ্তির গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।

নোটিশে সরকারকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জীবিত গরু ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত বা শীতলীকৃত মাংস আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ এবং গরুর মাংসের দাম কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত