• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেয়ের এই পরিণতির জন্য আরো একজনকে দায়ী করলেন মরিয়মের বাবা!

প্রকাশিত: ১৪:৫০, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মেয়ের এই পরিণতির জন্য আরো একজনকে দায়ী করলেন মরিয়মের বাবা!

‘মেয়েকে এই পথে নেওয়ার পেছনে তার মামা ওবায়দুর রহমান দায়ী’—এমন অভিযোগ করেছেন মরিয়ম খাতুনের বাবা মাসুম বিল্লাহ। তার দাবি, টাকার লোভ দেখিয়ে ওবায়দুরই তার মেয়েকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব অভিযোগ করেন মাসুম বিল্লাহ।

সকাল থেকেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মেয়ের মরদেহের অপেক্ষায় মর্গে ছিলেন তিনি। কখনো কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন, আবার কখনো শান্তভাবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন। মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি চাই সঠিক তদন্ত হোক, ন্যায়বিচার পাই। প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।’

মেয়ের সঙ্গে শেষ কবে কথা হয়েছিল জানতে চাইলে মাসুম বিল্লাহ বলেন, মেয়ের সঙ্গে তার কথা কম হতো। তবে এমপির সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও সে অনেক সময় কথা বলত না বলে জানান তিনি।

মেয়ের মৃত্যুর জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আজকের এই পরিস্থিতির জন্য আমার শ্যালক ওবায়দুর দায়ী। এই রাস্তায় সে নিয়ে এসেছে। টাকার লোভে জড়িয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে।’

মেয়ের সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘মেয়ে সব সময় বলত, আমি বাইরে মুখ দেখাব কীভাবে। সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে—আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন। আমি বাবার চেয়ে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজ আমি এই পরিণতি ভোগ করছি।’

মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘মেয়ে এসব বলত আর আমার পা জড়িয়ে কাঁদত। ওবায়দুরকে খুব বিশ্বাস করেছিল বলেই আজ তার এই পরিণতি হয়েছে।’

তার ভাষ্য, ‘ওই ঘটনা না ঘটলে ওকে এমপি হোস্টেলে এসে থাকতে হতো না। তাহলে এই ঘটনাও ঘটত না।’

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিজের আপন খালু হিসেবে পরিচয় দেন মুদি দোকানি মাসুম বিল্লাহ। খালুর সঙ্গে তার মেয়ের কীভাবে সম্পর্ক তৈরি হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। অনেক পরে জানতে পেরেছি। কিন্তু ওর মামার জন্য এভাবে সব শেষ হয়ে গেল।’

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কথিত চিরকুটগুলো মরিয়মের নিজের লেখা কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তার বাবা। তিনি বলেন, ‘এগুলো ওর লেখা কি না, আমি বলতে পারছি না। আমি ওর লেখা চিনি না।’

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন (ন্যাম ভবন) এর ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে ছিলেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম। পরে তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। এ সময় মরিয়মের হাতে লেখা বেশ কয়েকটি চিঠিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা রিমান্ড আবেদন করব। তবে কতদিনের রিমান্ড চাওয়া হবে, তা সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করা হবে।’

সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে জানিয়ে ইবনে মিজান বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এর আগে গত ২০ জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ ঘটনায় নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: