ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সালের বিরুদ্ধে দুদকের ২ মামলা
শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও অন্যদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।
একইসঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধে ৬৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, ফয়সাল করিম মাসুদ, মিডল্যান্ড ব্যাংকের রূপনগর উপশাখার এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. সফিকুল ইসলাম, একই শাখার রিলেশনশিপ অফিসার মো. সারোয়ার হোসেন এবং ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করে দু’টি কোম্পানিকে জয়েন্ট ভেঞ্চারে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে টেন্ডার সিকিউরিটি হিসেবে ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকার পে-অর্ডার গ্রহণ করেন। পরে জাল ও বানোয়াট ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে এবং অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যাংক হিসাব খুলে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘ইনডিড ক্লাউড বিডি’র হিসাব থেকে অর্থ প্রথমে ফয়সালের মালিকানাধীন ‘এপল সফট আইটি’র হিসাবে এবং পরে তার নিজস্ব এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই অর্থ ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার নামে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের বেনারশী-পল্লী উপশাখায় এফডিআর করা হয়।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলে রাখার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুদক।
এছাড়া, তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধে ৬৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই আইনের ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: