যৌতুক না দেয়ায় তালাকের অভিযোগ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মামলা
অভিযুক্ত মো: রাশিদুল ইসলাম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মোছা: সুরাইয়া আকতারের পরিবারের কাছে স্বামীর পরিবার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করা ও যৌতুক প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে তাকে তালাক দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে চলতি বছরের ৪ জুন বগুড়া জেলার সোনাতলা আমলী আদালতে স্বামী মো: রাশিদুল ইসলামসহ, শাশুড়ি ও স্বামীর বোনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সুরাইয়া।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিবাহের পর থেকেই সুরাইয়ার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করে আসছিল রাশিদুল ও তার পরিবার। যার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এসবের স্থায়ী সমাধান করতে ২০২৬ সালের ৩০ মে সুরাইয়ার বাড়িতে স্বপরিবারে আসেন রাশিদুল এবং যৌতুক না দিলে সুরাইয়াকে তালাক দেয়ার হুমকি দেয়। তবুও যৌতুকের দাবিতে রাজি হয়নি সুরাইয়ার পরিবার।
সুরাইয়া আকতার জানায়, যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ১১ জুন তাকে তালাক দেয়া হয় এবং সেই চিঠি হাতে পান ১ জুলাই যেখানে কাবিননামার টাকা প্রদানের কথা উল্লেখ না থাকায় তিনি কোন সই করেননি। সুরাইয়ার দাবি, ২১ আগস্ট রাশিদুল তৃতীয় বিয়ে করেছেন। তবে রাশিদুল তৃতীয় বিয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সুরাইয়ার কাবিননামার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২ মার্চ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় সুরাইয়া ও রাশিদুল। তবে এর আগেই সুমাইয়া সালেহা নামে আরেক স্ত্রী ছিল রাশিদুলের। যা গোপন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ সুরাইয়ার। ১ম স্ত্রীর সাথে তার বিবাহ হয় ২০২১ সালের ২৮ জুন।
সুরাইয়ার অভিযোগ, এসবের পরেও নিয়মিত অন্য নারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সম্পর্ক রাখতেন রাশিদুল। এক পর্যায়ে ১ম স্ত্রীকে চলতি বছরের ২৪ মার্চ তালাক দিয়ে সুরাইয়ার সাথে ভালোভাবে সংসার করার আশ্বাস দিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা নেয় রাশিদুল। পরিবারের জমি বিক্রি করে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যাংকে ও বাকি টাকা ব্যবসার জন্য তাকে দেয় বলে জানান ভুক্তভোগী। ওই ব্যাংক লেনদেনের রশিদের একটি কপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
তবে, আবারও ৫ লক্ষ টাকার দাবিতে রাজি না হওয়ায় ৩০ মে সুরাইয়াকে তার পরিবারের কাছে রেখে আসা হয় এবং তালাক দেয়া হয়। এসব ঘটনার পরে ডিভোর্সের ৩ মাস সম্পন্ন হওয়ার আগেই নতুন বিয়ে করার কথা জানতে পেরে ২৮ আগস্ট রাশিদুলের বাড়িতে যান সুরাইয়া।
তার অভিযোগ, বাড়িতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তার ফোন থেকে এসব ঘটনার তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এসব বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানালে তাদের স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ভিডিও ভাইরাল করে দেয়ার হুমকিও দেয় রাশিদুল। এই সংক্রান্ত মুঠোফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিংও এসেছে প্রতিবেদকের কাছে। তবে রাশিদুলের ভাষ্য রাগের মাথায়ই এসব বলেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী মোছা: সুরাইয়া আক্তার বলেন, বারবার আমাকে প্রতারিত করেছে। আমাদের একান্ত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে আমায়। আর শেষমেশ যৌতুকের টাকা না পেয়ে আমায় তালাক দিয়েছে। আমি আইনগতভাবে এই ঘটনার বিচার চাই।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রাশিদুল বলেন, ডিভোর্সের পিছনে পারিবারিক, ব্যক্তিগত ও সামাজিক কারণ রয়েছে। সবকিছু এভাবে বলাও যায় না। তবে তার নিজেরও কিছু সমস্যা রয়েছে যার কারণে আমার জন্য সংসার করা সম্ভব হয়নি। আর আমি তার পরিবার থেকে টাকা নিয়েছি কিন্তু তা আমাদের ব্যবসায়িক লেনদেন। যৌতুক আমি কেন চাবো?
মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, সে এখন মামলা করতে পারে। আমি এতদিন সংসার করেছি এখন সে যদি আমার ক্ষতি করতে চায় আমি আর কি বলবো।
গোপন মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল করার হুমকির অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মাঝে রাগের সময় অনেক কথাই হয়েছে। এখন সে হয়তো আমার ক্ষতি করার কিছু বলেছে আমিও তার প্রেক্ষিতে কিছু বলেছি। সেও আমাকে অনেক কিছু বলেছিলো কিন্তু সেইসব মেসেজ সে ডিলিট করে দিয়েছে।
নিজের একাধিক বিয়ে নিয়ে তিনি বলেন, তাকে বিয়ের আগে আমার বিয়ে হয়েছে এ বিষয়ে সে জানতো না এটা ঠিক। কিন্তু জানার পর সে এটা মেনে নিয়েই আমার সাথে থেকেছে। পরবর্তীতে তার সাথে সংসার করার জন্য আমি ১ম স্ত্রীর সাথেও ডিভোর্স করেছি। আর এখন আমি কোন বিয়ে করিনি। ৩য় বিয়ের বিষয়টি সঠিক নয়।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: