যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন: প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধ নানাকে পিটিয়ে জখম
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে সন্তানসহ ঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর, এর প্রতিবাদ করায় ওই গৃহবধূর বৃদ্ধ নানাকে লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজম শেখসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূর মামা মোঃ আমিরুল ইসলাম।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর পূর্বে কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের গোবরাখালী গ্রামের মোঃ আজম শেখের সাথে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের মোছাঃ অন্তরা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মোঃ আরাবী শেখ নামে ৩ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই আজম শেখ বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে অন্তরার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে ইতোমধ্যে তাকে নগদ দুই লক্ষ টাকা ও আসবাবপত্র দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এর জের ধরে সম্প্রতি স্ত্রীকে মারধর করে কোলের শিশুসন্তানসহ এক কাপড়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন আজম।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিবাদীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি নিয়ে গৃহবধূর নানা মোঃ মজিবর রহমানকে বাড়ির সামনের রাস্তায় একা পেয়ে ঘিরে ধরে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তিনি গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে বিবাদীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
ঘটনার সময় বৃদ্ধের আত্মচিৎকারে স্থানীয় মোঃ মোজাফফর শেখ ও মোঃ আনারুলসহ আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে বিবাদীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে কেটে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় মজিবর রহমানকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আজম শেখ ছাড়াও অভিযুক্ত অন্য বিবাদীরা হলেন— মোঃ সুমন, মোঃ সাকিব, মোঃ আল-আমিন, মোঃ ইমন, মোঃ মাহফুজ শেখ এবং মোঃ তন্ময়। তারা সবাই গোবরাখালী গ্রামের বাসিন্দা।
এ বিষয়ে অভিযোগের বাদী ও আহত বৃদ্ধের ছেলে আমিরুল ইসলাম জানান, "আমার ভাগিনাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে বের করে দেওয়ায় আমার বৃদ্ধ বাবা কথা বলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিবাদীরা তাকে লাঠিসোটা ও রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। আমরা এ হামলার আইনানুগ বিচার ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: