কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যা: ছাত্রলীগ নেতাসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা
জাকারিয়া খান (ফাইল ছবি)
সাতক্ষীরা শহরে কলেজছাত্র জাকারিয়া খান (১৯) হত্যার ঘটনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কিশোর গ্যাংয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত নাহিদ হাসানকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ মামলা হয়েছে। মামলায় আরও ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার দ্বিতীয় আসামি মোহিত হাসান বনি (২০)কে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে নিহত জাকারিয়ার ভাই মো. শাহারিয়ার খান বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করেন। এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে শহরের কাটিয়া এলাকায় হামলার শিকার হন জাকারিয়া। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান (২৫) সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দীনের ছেলে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. আরিজুল ইসলাম (২৮), আবুল হোসেন ওরফে বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না (২৭), রবিউল ইসলামের ছেলে মো. জুয়েল (২৪), মো. হাসানের ছেলে মো. সাগর (২৩), মৃত ফিরোজ উদ্দীনের ছেলে মো. রনি (৩০), শাকিল চেয়ারম্যানের ছেলে মো. সামি (২৪), জমিদার মুন্সির ছেলে মো. নাঈম (২২), নজরুল সরদারের ছেলে রাশিদুর জামান রাশেদ (৩০), মো. মিঠুর ছেলে মো. হুজাইফা (২০) এবং মিজানুর রহমান মির্জার ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ (২৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে কদমগাছতলায় রবিউলের চায়ের দোকানে নাহিদসহ কয়েকজন চা খেতে যান। দ্রুত চা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানি রবিউলের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় রবিউলের প্রতিবেশী ও ভাইপো বাপ্পী হাসান এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর এবং মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় জাকারিয়া ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বাপ্পীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে প্রধান আসামি নাহিদ হাসান হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জাকারিয়ার বাম পাশে বুকে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে জাকারিয়া মাটিতে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জাকারিয়ার ফুফাতো ভাই ও সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন দাবি করেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে হামলা চালানোর বিষয়টি দেখা গেছে। তিনি নাহিদসহ মামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বকচরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. রমজান আলীকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা রয়েছে। ওই মামলায় অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল শহরের ‘ফুচকা বাংলা’র পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছুরিকাঘাতসহ আরও কয়েকটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে নাহিদ হাসানের চাচা নাছির উদ্দীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার ভাইপো মোহিত হাসান বনি ও জাকির হোসেন রনি এ ঘটনায় জড়িত নন। ঘটনার সময় নাহিদও সেখানে ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি।
নাছির উদ্দীনের ভাষ্য, তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে নাহিদের বিরুদ্ধে আগের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারে—এতে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু নিরীহ কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটক করা ঠিক হবে না।
সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার বলেন, কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: