পাবনা মানসিক হাসপাতালে দালালি, চক্রের ৪ সদস্যের কারাদণ্ড
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী নিয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালে প্রবেশের সময় রোগীর স্বজনদের ঘিরে ধরেন দালাল চক্রের সদস্যরা। তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিভ্রান্ত করে বিভিন্নভাবে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে হাসপাতাল চত্বর থেকে দালাল চক্রের চার সদস্যকে আটক করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালের বহির্বিভাগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দালালির অভিযোগে চারজনকে হাতেনাতে আটক করে তাদের দণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পাবনা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফুয়াদ।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর এলাকার শহিদুল মণ্ডলের ছেলে ইদ্রিস আলী (২৫), তৈয়ব আলীর ছেলে জাকির হোসেন (৪৭), চাঁদ আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৪৫) এবং কিসমত প্রতাপুর এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে সুজন আলী (২৬)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাবনা মানসিক হাসপাতাল মানসিক রোগের চিকিৎসায় দেশের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল হওয়ায় এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী নিয়ে আসেন তাদের স্বজনেরা। কিন্তু তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিভ্রান্ত করে বেসরকারি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা বলে এবং নানা কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনা হলেও সম্প্রতি আবারও তাদের কয়েকজন সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।
এনএসআই পাবনা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ বি এম লুৎফুল কবির জানান, অসহায় মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এনএসআইয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেখা যায়, অটোরিকশায় করে রোগী নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রবেশের সময় দালাল চক্রের সদস্যরা রোগীর স্বজনদের অটোরিকশা আটকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। কেউ সড়কে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ পাশের দোকানে অবস্থান করে রোগীর স্বজনদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছিলেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফুয়াদ বলেন, আটক চারজনের প্রত্যেককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবার তারা সক্রিয় হয়ে ওঠে। দালালি কার্যক্রম চালানোর সময় তাঁদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অসহায় মানুষের দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের অন্যায় কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: