• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক, নানা পাটাকারের জীবন যেন সিনেমার গল্প!

প্রকাশিত: ০১:২৩, ৯ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০১:২৩, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক, নানা পাটাকারের জীবন যেন সিনেমার গল্প!

অভাব-অনটন আর কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল পথচলা। একসময় মাসে মাত্র ৩৫ রুপি আয় করতেন। সিনেমার পোস্টার আঁকার পাশাপাশি এক বেলার খাবারেই দিন কাটাতে হয়েছে তাকে। সেই মানুষটিই পরবর্তী সময়ে বলিউডের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা হয়ে গড়ে তোলেন কোটি কোটা রুপির সম্পদ। তিনি নানা পাটেকার।

শৈশব থেকেই অর্থকষ্টের সঙ্গে পরিচয় নানা পাটেকারের। পরিবারের আর্থিক সংকট তীব্র হলে মাত্র ১৩ বছর বয়সে কাজ শুরু করতে হয় তাকে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল শেষে প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টিতে যেতেন সিনেমার পোস্টার আঁকতে। মাসে এই কাজ থেকে তার আয় ছিল মাত্র ৩৫ রুপি। পারিশ্রমিকের পাশাপাশি দিনে এক বেলার খাবারও পেতেন।

জীবনের সেই কঠিন অধ্যায়ই তাকে অর্থের মূল্য ও বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত করে দেয়। পরে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন নানা। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার। এরপর নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে ধীরে ধীরে দর্শক ও নির্মাতাদের নজরে জায়গা করে নেন।

‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘আব তক ছাপ্পন’, ‘নটসম্রাট’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠেন নানা পাটেকার। হিন্দি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মারাঠি সিনেমাতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে বেড়েছে তার আয় ও সম্পদের পরিমাণ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নানা পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ কোটি রুপি। ক্যারিয়ারের একটি পর্যায়ে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিতেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে বিপুল অর্থের মালিক হলেও বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য নানা পাটেকারের পরিচিতি নেই। মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে দীর্ঘদিন প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের একটি এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেছেন তিনি। কয়েক দশক আগে প্রায় ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কেনা ওই ফ্ল্যাটের বর্তমান মূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মুম্বাইয়ের বাইরে গোয়াতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া পুনের খাডাকওয়াসলার কাছে প্রায় ২৭ একর জমির একটি ফার্মহাউসের সঙ্গেও তার নাম রয়েছে। সেখানে গম ও ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বলিউডের অনেক তারকার মতো বিলাসবহুল গাড়ির বড় সংগ্রহও নেই নানা পাটেকারের। তার ব্যবহৃত গাড়ির তালিকায় রয়েছে মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, মাহিন্দ্রা স্করপিও এবং অডি কিউ৭।

প্রায় দেড় কোটি রুপি মূল্যের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও তিনি সেটি নিতে আগ্রহী ছিলেন না বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই অর্থ কৃষকদের কল্যাণে ব্যয় করাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানা যায়।

নানা পাটেকারের জীবন তাই কেবল একজন অভিনেতার সাফল্যের গল্প নয়। দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এক দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনিও এটি। একসময় যে মানুষটি সামান্য পারিশ্রমিক ও এক বেলার খাবারের বিনিময়ে সিনেমার পোস্টার আঁকতেন, তিনিই পরবর্তীতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত ও সম্মানিত অভিনেতা হয়ে ওঠেন।

কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হওয়ার পরও সাধারণ জীবনযাপন, কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অর্থের প্রতি সংযত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নানা পাটেকার বলিউডের অন্য অনেক তারকার চেয়ে আলাদা। তার জীবনের এই উত্থান তাই অনেকের কাছেই সংগ্রাম থেকে সাফল্যে পৌঁছানোর অনুপ্রেরণার গল্প।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত