• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাসপাতালে নয়, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হোক ঘর থেকেই: ডিসি ফরিদা

প্রকাশিত: ১৭:২৩, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হাসপাতালে নয়, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হোক ঘর থেকেই: ডিসি ফরিদা

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার আগেই প্রতিরোধের লড়াই শুরু করতে হবে ঘর ও আশপাশের পরিবেশ থেকে- এমন আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এ লড়াইয়ে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিকসহ সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে জেলা প্রশাসন, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিসি ফরিদা খানম বলেন, “ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই হাসপাতাল থেকে শুরু হয় না; লড়াইটা শুরু হয় আমাদের ঘর ও আশপাশের পরিবেশ থেকে।” ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও সম্মিলিত উদ্যোগকে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

ডিসি ফরিদা বলেন, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা আশপাশের যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় নিয়ে নিজেদের ঘর, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতাকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, তদারকি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে শুধু প্রশাসনের অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

“পরিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি থেকে সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম থেকে সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন,” বলেন তিনি।

প্রতিটি পরিবারকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রথম দুর্গ এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সচেতনতার কেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমরা শুধু নিজেরা সচেতন হবে না, তোমাদের পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করবে।”

গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংবাদ, প্রতিবেদন ও প্রচারের মাধ্যমে প্রতিরোধের বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক দিনের কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিতভাবে ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত