• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে বাংলাদেশের মহামারি প্রস্তুতির পরিকল্পনা তুলে ধরলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার

প্রকাশিত: ১৮:১৯, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৮:১৯, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের মহামারি প্রস্তুতির পরিকল্পনা তুলে ধরলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার

ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা জাতিসংঘে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেছেন, মহামারি মোকাবিলায় শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নজরদারি, ল্যাবরেটরি সক্ষমতা, জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা ও দক্ষ স্বাস্থ্য জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায়’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বক্তব্য দেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। সভায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তব্যে ড. হায়দার বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি দেখিয়েছে একটি স্বাস্থ্যসংকট কত দ্রুত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সংকটে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে মহামারির সময় টিকা, রোগনির্ণয় সুবিধা, চিকিৎসাসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যও স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ থেকে পাওয়া শিক্ষা এখন টেকসই কার্যক্রমে রূপ দিতে হবে। মহামারির তাৎক্ষণিক স্মৃতি ম্লান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তুতির গুরুত্ব যেন কমে না যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে শক্তিশালী ও সহনশীল জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নজরদারি, ল্যাবরেটরি সক্ষমতা, জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য জনবল এবং কমিউনিটি পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার বিষয়টি উঠে আসে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারি প্রস্তুতির অন্যতম মৌলিক নীতি হতে হবে সমতা। স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে জীবনরক্ষাকারী টিকা, ওষুধ, রোগনির্ণয় সুবিধা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপণ্য সব দেশের মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। দেশের আয় বা ক্রয়ক্ষমতা যেন এক্ষেত্রে বাধা না হয়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, ওষুধ, রোগনির্ণয় সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাপণ্যের গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান ড. হায়দার। পাশাপাশি সহনশীল সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের জাতীয় স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার তুলে ধরে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিরোধমূলক সেবা শক্তিশালীকরণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রোগ নজরদারি ও ল্যাবরেটরি সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য জনবল শক্তিশালী করার কথা বলেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সমতাভিত্তিক করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে সরকারের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

মহামারি প্রস্তুতিতে পূর্বানুমানযোগ্য ও টেকসই অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ড. হায়দার। তিনি বলেন, প্রস্তুতিতে বিনিয়োগকে শুধু জরুরি পরিস্থিতির ব্যয় হিসেবে না দেখে মানবনিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

বক্তব্যে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও কমিউনিটির মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পরবর্তী মহামারি থেকে কোনো দেশ এককভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে না। প্রতিটি দেশের নিজস্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিনিয়োগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাহলেই পরবর্তী জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত