চ্যাটজিপিটিকে টেক্কা দিতে গুগলের জেমিনি ৪ আর্গন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জগতে নতুন মডেল জেমিনি ৪ আর্গন (Gemini 4 Argon) উন্মোচন করেছে গুগল। জটিল সফটওয়্যার তৈরি, আর্থিক ও আইনি বিশ্লেষণ এবং সাইবার নিরাপত্তায় উন্নত সক্ষমতার দাবি নিয়ে মডেলটি এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অপব্যবহারের ঝুঁকি বিবেচনায় শুরুতেই সবার জন্য উন্মুক্ত না করে নির্দিষ্ট সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে গুগল।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, আর্গন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি দীর্ঘ ও জটিল কাজের বিভিন্ন ধাপ ধরে যুক্তি বিশ্লেষণ করতে পারে। সফটওয়্যারের ত্রুটি শনাক্ত করা, নিরাপত্তার দুর্বলতা যাচাই করা এবং সম্ভাব্য সমাধান তৈরির মতো কাজেও মডেলটি ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আর্গন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যারের গুরুতর দুর্বলতা শনাক্ত, যাচাই ও সংশোধন করতে সক্ষম বলে দাবি করেছে গুগল।
সাইবার হামলার ধরন ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠায় প্রতিরক্ষামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থায় এ ধরনের এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ও ডিজিটাল অবকাঠামোর দুর্বলতা আগে থেকেই শনাক্ত করা গেলে সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা দলগুলোর কাজের গতি বাড়ানো সম্ভব।
আর্গনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর আউটপুট টোকেন সীমা এক মিলিয়ন পর্যন্ত বাড়ানো। গুগলের দাবি, এতে দীর্ঘ ও বহু ধাপের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশ্লেষণ ও কোড তৈরির সুযোগ বাড়বে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, DeepSWE v1.1 বেঞ্চমার্কে মডেলটি ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ স্কোর করেছে।
আপাতত ‘ফেয়ারউইন্ড’ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মডেলটি ব্যবহার করছেন। পরে ধাপে ধাপে পেইড এপিআই গ্রাহক, গুগল এআই আলট্রা সাবস্ক্রাইবার এবং অন্যান্য ব্যবহারকারীর জন্য এটি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের জন্য আর্গনের সম্ভাব্য ব্যবহার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর দ্বৈত ব্যবহারজনিত ঝুঁকিও বিবেচনার বিষয়। যে প্রযুক্তি সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে নিরাপত্তা বাড়াতে পারে, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে একই ধরনের সক্ষমতা অপব্যবহারের আশঙ্কাও তৈরি করতে পারে। ফলে মডেলটির প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে এর কার্যকারিতা, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং অপব্যবহার প্রতিরোধের ব্যবস্থার ওপর।
বিভি/ এসআই













মন্তব্য করুন: