• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

এক হ্যাকেই উধাও ৬৩০ কোটি ডলার, ক্ষতি সামলাতে যা করলো বিন্যান্স

প্রকাশিত: ০০:১৭, ১ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
এক হ্যাকেই উধাও ৬৩০ কোটি ডলার, ক্ষতি সামলাতে যা করলো বিন্যান্স

ছবি: বিবিসি

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান বিন্যান্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের হ্যাকিংয়ের ঘটনায় চুরি হওয়া ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদের ৯০ শতাংশ ক্ষতি তারা পুষিয়ে দিয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ সম্পদ প্রয়োজনীয় পরিমাণে সংগ্রহ করতে আরও সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে এটিকে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে বিন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তারা ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি নিজস্ব তহবিল বরাদ্দ রেখেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বিন্যান্স বলেছে, ‘চুরি হওয়া অর্থের আর্থিক দায়ভার বিন্যান্স বহন করবে, আমাদের ব্যবহারকারীরা নয়।’

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিভিন্ন তহবিল ও নিজস্ব করপোরেট কোষাগার থেকে অর্থের জোগান দিয়ে চুরি হওয়া সম্পদের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে। বিটকয়েন, ইথেরিয়াম ও টেথারসহ বহুল লেনদেন হওয়া আরও সাত ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সির সম্পদও এর আওতায় রয়েছে।

বিন্যান্সের পরবর্তী লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনসেবা চালু করা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর রবিবার থেকে আবারও অর্থ উত্তোলনের সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির ঘটনা ছিল এ ধরনের সবচেয়ে বড় ঘটনা।

বিন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে অননুমোদিত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, নিরাপত্তা ভাঙার আরও কয়েকটি পথ তারা শনাক্ত করেছে।

বিন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং বলেন, একাধিক ব্যক্তি এ হ্যাকিংয়ে জড়িত ছিলেন। নিজেদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ডের চিহ্ন আড়াল করতে তাঁরা ‘সেলফ-ডেস্ট্রাক্ট মেকানিজম’-এর মতো অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।

শুক্রবার বিন্যান্স জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় চুরি হওয়া প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস শুক্রবার জানিয়েছে, বিন্যান্স থেকে চুরি হওয়া অর্থ শনাক্ত, জব্দ, অনুসরণ ও উদ্ধারে বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে তারা সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী দুটি বড় প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ‘লাজারাস গ্রুপ’—যারা ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামেও পরিচিত—এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করার পক্ষে তাদের কাছে শক্তিশালী তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।

এর আগে গত বছর বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়া জড়িত বলে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। তবে এ ধরনের সাইবার হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে উত্তর কোরিয়া।

২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বিন্যান্স ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল সম্পদ কেনা, বিক্রি ও লেনদেনের সুযোগ দেয়। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির কয়েক শ মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো একধরনের ডিজিটাল সম্পদ। এর কোনো বাস্তব বা ভৌত অস্তিত্ব নেই। ডিজিটাল ওয়ালেট কিংবা কম্পিউটারের মাধ্যমে এসব সম্পদ সংরক্ষণ ও লেনদেন করা হয়।

সূত্র: বিবিসি

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: