• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আলজাজিরা এক্সপ্লেইনার

ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন মোড়

প্রকাশিত: ২২:২৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২২:৪১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন মোড়

ছবি: এআই

ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার রোডম্যাপ ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শর্ত পূরণের বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল চালু এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছিল। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে উদ্ধৃত মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার জানান, কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাত দিনের এই পরিকল্পনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। এরপর সপ্তম দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে।

আরাঘচির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের হিমায়িত ইরানি সম্পদ ছাড় করা। একই সঙ্গে লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাতগুলোতে যুদ্ধবিরতির কথাও বলা হয়েছে।

এসব শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ও বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক জবাব প্রকাশ করেনি। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো বাস্তবে পূরণ করবে কি না—এ বিষয়ে ট্রাম্পের সংশয় রয়েছে।

ট্রাম্পের আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, চাপ, হুমকি বা জবরদস্তির পরিবেশে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে না। ফলে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর এলেও দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে কাতার দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যেও নিউইয়র্কে আলোচনা হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো ও নতুন করে সংলাপ শুরুর শর্ত নিয়ে কথা বলেছেন।

এখন মূল প্রশ্ন হলো- হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই পক্ষ আবার আলোচনার টেবিলে বসবে কি না। ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবরের পাশাপাশি নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে বলেও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।

ফলে ইরানের সাত দিনের রোডম্যাপ আপাতত অচলাবস্থা কাটাতে পারেনি। তবে কাতারের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। এখন নজর থাকবে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং তেহরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

সূত্র: আলজাজিরা

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত