• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জোহানেসবার্গে একই কায়দায় ১০ নারী খুন: সিরিয়াল কিলার, সন্দেহ পুলিশের

প্রকাশিত: ০১:২১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ০১:৩৫, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জোহানেসবার্গে একই কায়দায় ১০ নারী খুন: সিরিয়াল কিলার, সন্দেহ পুলিশের

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের একটি শহরতলিতে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত কয়েক মাসে একই ধরনের ঘটনায় এটি দশম নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা। ধারাবাহিক এসব মৃত্যুর ঘটনায় সিরিয়াল কিলার জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে জোহানেসবার্গের কেন্দ্র থেকে উত্তর-পূর্বে টেম্বিসা এলাকার একটি কবরস্থান থেকে সর্বশেষ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আগের রাতে ওই নারী যে বন্ধুর সঙ্গে একটি বারে ছিলেন, পরে তিনিই মরদেহের ছবি দেখে তার বন্ধুকে শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে অপরাধ তদন্তকারী দল পাঠানো হয়েছে। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত করছে। তবে নিহত নারীর পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএবিসিকে ওই নারীর বন্ধু জানান, মরদেহের ছবি দেখানোর পর আগের রাতের পোশাক দেখে তিনি তার বন্ধুকে চিনতে পারেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তার সন্তানদের কী বলবেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

গৌতেং প্রদেশের পুলিশ কমিশনার টমি মথোমবেনি বলেন, তদন্তের এই প্রাথমিক পর্যায়ে সর্বশেষ মৃত্যুর সঙ্গে আগের ঘটনাগুলোর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।

তিনি জানান, আগের ঘটনাগুলোতে নিহতদের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। তাদের মৃত্যুর ধরন ও পরিস্থিতিতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, যা একই ধরনের অপরাধী বা একই কৌশলে হত্যার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। সর্বশেষ ঘটনাটিও আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে যুক্ত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মথোমবেনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে সিরিয়াল কিলারের সম্ভাবনা আমরা উড়িয়ে দিতে পারছি না। তবে এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্যও আমাদের হাতে নেই।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় হত্যার হার বিশ্বের অন্যতম বেশি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন- এই তিন মাসেই দেশটিতে ৫ হাজার ৪২৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন।

তবে জোহানেসবার্গের আশপাশে সাম্প্রতিক নারীদের মৃত্যুর ধরন ও ধারাবাহিকতা স্থানীয় নারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জুলাই থেকে একই ধরনের পরিস্থিতিতে আরও ১০টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এসব মরদেহের বেশির ভাগই টেম্বিসার পাশের এলাকা কেম্পটন পার্ক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতদের অনেকেই তরুণী ছিলেন। প্রায় সব ক্ষেত্রেই মৃত্যুর আগে তারা গুরুতর সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের ওপরও চাপ বাড়ছে। এক বছরেরও কম সময় আগে দেশটির মন্ত্রীরা নারীর প্রতি সহিংসতা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশের পরিসংখ্যানে নিহতদের লিঙ্গভিত্তিক তথ্য আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয় না। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার কমিশন গত সপ্তাহে জানিয়েছে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশটিতে ৫৬৯ নারী হত্যার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৫২ নারী হত্যাচেষ্টার ঘটনায় বেঁচে গেছেন।

এদিকে, গত সপ্তাহে নয়টি হত্যাকাণ্ডের একটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন এমন অন্যদেরও শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

সূত্র: বিবিসি

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত