• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের দাপট! পেজেশকিয়ান-আরাগচির চমক

প্রকাশিত: ১৭:৪৫, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
যুদ্ধের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের দাপট! পেজেশকিয়ান-আরাগচির চমক

যে দেশের সঙ্গে সাত মাস ধরে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রেখে মধ্যমণির মতো বিশ্বমঞ্চের আলো টেনে নিলো ইরান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে নিজেদের শক্তি, অবস্থান ও কূটনৈতিক বার্তা তুলে ধরার অব্যর্থ এক মঞ্চে পরিণত করেছে তারা। এসবের মধ্য দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান দিলেন, ইরান এমন একটি দেশ যারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে, কিন্তু কারো দাদাগিরি মানে না। 

সিএনএন-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ যাত্রায় সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্য তৈরি হয় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে ঘিরে। যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে, এ সপ্তাহে সেই দেশেরই সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তায় ম্যানহাটনের রাস্তায় দেখা যায় তাকে। অন্যদিকে জাতিসংঘের অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কতা জানিয়ে ঘোষণা দেন, যতই চাপ আসুক, ইরান কখনোই মাথা নত করবে না। 

ইরানি প্রতিনিধিদের যুক্তরাষ্ট্র সফরে একের পর এক চমক আসতে থাকে পর্দার আড়ালের বৈঠকগুলোতে। ইউরোপের একাধিক দেশের কূটনীতিকসহ দুই ডজনেরও বেশি প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন আরাগচি। এমনকি সংঘাতে জড়ানো জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হয় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে, তাও আবার সরাসরি। 

সফরকালে নিউইয়র্কের একটি হোটেলে পশ্চিমা সাংবাদিক ও বিভিন্ন থিংকট্যাংকের বিশ্লেষকদের সঙ্গেও বসেন পেজেশকিয়ান। সেখানেও তিনি ইরানের অটল অবস্থান ও চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন। 

সিএনএন-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগের দশকগুলোতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে কমবেশি আন্তর্জাতিক আগ্রহ দেখা গেলেও, যুদ্ধের ছায়ায় এবারে তাদের সফরই হয়ে ওঠে মূল আকর্ষণ। ইরানি প্রতিনিধিদল বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ, দুই ধরনের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই কৌশলগতভাবে এই সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন।
 
ইরানের কট্টরপন্থীরা শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেজেশকিয়ান ও আরাগচির কূটনৈতিক যোগাযোগের সমালোচনা করেন। তাদের মতে, যে দেশ সক্রিয়ভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে, সেই দেশে সফর করাকে আত্মসমর্পণের লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। 

সিএনএন বলছে, কিছু রাজনৈতিক ঝুঁকি সত্ত্বেও ইরানি কর্মকর্তাদের এই সফর দেশের ভেতরে ভালোভাবেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও কূটনৈতিক যোগাযোগের পথও সক্রিয় হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাসীর কাছে ইরানের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং মার্কিন জনগণের কাছে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরার পরিসর তৈরি করেছে এই সফর। সব মিলিয়ে ইরানের জয়জয়কার চলছে সর্বমহলে। 

চলমান সংঘাত নিয়ে বর্তমানে দুই পক্ষই এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধে আটকে আছে বলে অভিমত সিএনএন-এর। কারা দীর্ঘ সময় বর্তমান পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে, যেন মূল লড়াইটা চলছে তা নিয়েই। ইরান বোঝাতে চাইছে, কঠিন চাপ ও সংকট সহ্য করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানির দাম বেড়ে চললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, এতে করেও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দল পরাজিত হবে না। 

বিভি/এইচজে

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত