ভারত-নেপালে আবারও ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস, নিহত ৬৮
ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবেশী নেপালে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। বৃহস্পতিবার থেকে নেপালে এ দুর্যোগে আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যটিতে ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অথচ এ সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার।
কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির’ কারণে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। বৃষ্টির কারণে এক হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বঙ্গোপসাগরের ওপর সৃষ্ট একটি নিম্নচাপ স্থলভাগে উঠে এসে আরও শক্তিশালী হওয়ায় অঞ্চলজুড়ে বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়। এতে বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হয়ে থাকে। রাজ্যটির জনসংখ্যা ২৪ কোটিরও বেশি।
এদিকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওডিশা রাজ্যেও ভারী বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নিচু এলাকার ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র দেবকুণ্ডও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন জানিয়েছে, সাতটি রাজ্যের ৩০টি নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বর্তমানে ‘তীব্র ঝুঁকিপূর্ণ’ পরিস্থিতিতে রয়েছে। গঙ্গা, গণ্ডক, কোসি, বাগমতী ও নর্মদাসহ দেশটির কয়েকটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নেপালে আগস্টের শেষ দিকে ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর আবারও বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে নতুন করে শুরু হওয়া দুর্যোগে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
দেশটির ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রধান নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি বাড়তে থাকায় অর্ধেকের বেশি জেলায় বন্যা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। জ্বালানি, পানি সম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাহুগঙ্গা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় একটি ৪০ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শান্তি মাহাত বলেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোট এলাকাকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে বর্তমানে এসব এলাকাকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
সূত্র: আলজাজিরা
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: