ইউক্রেনজুড়ে ভয়াবহ রুশ হামলায় নিহত ৮
ইউক্রেনজুড়ে রুশ বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। সর্বশেষ দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রুশ হামলায় অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে খারকিভের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে রাশিয়ার একটি গাইডেড বোমা আঘাত হানে। এতে ভবনটির দুটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ তার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এ তথ্য জানান। আহতদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রবিবারও ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলার খবর পাওয়া যায়। দেশটির স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি জানান, উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমিতে বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে। হামলায় একটি শিশুদের কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলে ‘ব্যাপক হামলায়’ একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওদেসা অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ। হামলায় আবাসিক ভবন, একটি দোকান, হোটেল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও শস্যগুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজধানী কিয়েভেও রুশ হামলায় দুই ১৬ বছর বয়সী কিশোরসহ এক নারী আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিয়েভ নগর প্রশাসন জানিয়েছে, রুশ বাহিনী নিয়মিত ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বাড়ি, একটি গুদাম ও একটি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রবিবার জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রুশ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। একই দিনে কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলায় একজন পুরুষ নিহত হন।
জেলেনস্কি তার এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ২ হাজার ২০০টির বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন, ১ হাজার ৬৩০টি বিমানবোমা এবং বিভিন্ন ধরনের ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
পরে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, রাশিয়া যদি সত্যিই উত্তেজনা কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিত, তাহলে এমন ব্যাপক ‘শাহেদ’ ড্রোন হামলা চালানো হতো না। ইরানে তৈরি এসব ড্রোন রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে আসছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভে ইউক্রেনের কিয়েভস্টার ওমেগা টেলিকমের দুটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। রুশ মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে সেবা দিচ্ছিল।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে শনিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, মস্কো তাদের সামরিক অভিযান ‘শেষ পর্যন্ত’ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে সোমবার রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি তেল সংরক্ষণাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর পাভলোভস্কায়া তেল ডিপোতে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে হামলা আরও জোরদার করেছে ইউক্রেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে জাতিসংঘ বেসামরিক মানুষের ওপর ক্রমবর্ধমান প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: