• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যায় ৮ জনের মৃত্যু, ব্যাংককে দুর্যোগ ঘোষণা

প্রকাশিত: ১৫:৫১, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যায় ৮ জনের মৃত্যু, ব্যাংককে দুর্যোগ ঘোষণা

টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে থাইল্যান্ড। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে রাজধানী ব্যাংককজুড়ে দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে রাজধানীতে এখন পর্যন্ত বন্যায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থাইল্যান্ডের দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ (ডিডিপিএম) জানিয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় সা কেও প্রদেশে। সেখানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চানথাবুরি প্রদেশে দুজন এবং সারাবুরি প্রদেশে একজন মারা গেছেন। তবে নিহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

ডিডিপিএমের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকক বাদে দেশটির ২৭টি প্রদেশে বন্যায় ৫ লাখের বেশি পরিবার এবং প্রায় ১৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর খালগুলো পানিতে ফুলে ওঠে এবং বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার পুরো ব্যাংকক শহরকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করা হয়। রাজধানীতে আরও প্রায় ৫২ হাজার পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরকারি হিসাবে ব্যাংককে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ডিডিপিএম জানিয়েছে, শহরের পানির উচ্চতা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা ও বন্যার পানি রয়েছে। শহরের পূর্বাঞ্চলের অন্তত একটি এলাকায় বাসিন্দাদের উরুসমান পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

গত ৪৮ ঘণ্টায় ব্যাংককে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বন্যার পানিতে সাপের উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বন্যায় বন্যপ্রাণীরও ক্ষতি হয়েছে। একটি বিনোদন পার্ক থেকে ১০টি হগ ডিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে এবং কয়েকটি মারা গেছে। অন্যদিকে, পানি বেড়ে যাওয়ায় একটি খামার থেকে প্রায় দুই মিটার লম্বা চারটি কুমির পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

বন্যার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মজীবীদের বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে ব্যাংককের সড়ক ও গণপরিবহনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের উপস্থিতিও কম ছিল।

সরকারের মুখপাত্র এক্কাপব পিয়ানপিসেস জানিয়েছেন, ব্যাংককের কিছু এলাকায় এখনও পানির উচ্চতা বেশি। তবে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা চালু থাকায় ধীরে ধীরে পানির স্তর কমছে এবং মানুষের চলাচলও বাড়ছে।

থাইল্যান্ডে সেপ্টেম্বর সাধারণত বর্ষা মৌসুমের সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ সময়। তবে এবারের বৃষ্টিপাত ও বন্যার পরিস্থিতি অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি ভয়াবহ বলে মনে করছেন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা।

সূত্র: গালফ নিউজ

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত