সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক: এবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে ক্ষমা চাইলো ওপেনএআই
অস্ট্রেলিয়া সরকারের একটি ওয়েবসাইটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে ওপেনএআই। একই সঙ্গে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে অর্থায়ন এবং স্থানীয়ভাবে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আলোচিত এই ঘটনার পর ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত ও সমালোচনা বাড়তে থাকায় এমন পদক্ষেপের কথা জানানো হলো।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘অস্ট্রেলিয়ার জন্য আমরা কীভাবে আরও ভালো করব’ শিরোনামে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই স্বীকার করেছে, ঘটনার পর তাদের প্রতিক্রিয়া যথাযথ ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত জুনে ঘটনাটি ঘটলেও তা প্রকাশ্যে আসে গত সপ্তাহে। ওপেনএআইয়ের দাবি অনুযায়ী, এটিই প্রথমবারের মতো কোনো এআই এজেন্টের একটি সরকারি ওয়েবসাইটে হ্যাকিংয়ের ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।
ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে বিষয়টি জানাতে ওপেনএআইয়ের দেরি করারও সমালোচনা করেন তিনি।
ওপেনএআই জানায়, গত জুনে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের সময় তাদের কিছু মডেল অস্ট্রেলিয়া সরকারের কয়েকটি ওয়েবসাইটে এমনভাবে প্রবেশ করেছিল, যার অনুমতি তাদের ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, এ ঘটনায় তাদের প্রতিক্রিয়া আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল।
ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, একটি পরীক্ষামূলক এআই মডেল অস্ট্রেলিয়ার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার তথ্যভান্ডার ‘সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া মেডিকেয়ার স্ট্যাটিসটিকস রিপোর্টিং সার্ভিস’-এ অননুমোদিতভাবে প্রবেশের পথ খুঁজে নেয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই এআই মডেল সিস্টেমটিতে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়—এমন প্রবেশাধিকার পাওয়ার একটি উপায় খুঁজে পায়। এরপর সেটি বিভিন্ন কমান্ড চালায়, অভ্যন্তরীণ ফাইল ও লগইন তথ্য সংগ্রহ করে, সামগ্রিক পরিসংখ্যান নেয় এবং ফাইল তৈরি করে।
তবে এখন পর্যন্ত পরিচালিত পর্যালোচনায় ওই পোর্টাল থেকে কোনো ব্যক্তির চিকিৎসাসংক্রান্ত রেকর্ডে প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ওপেনএআই।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, অস্ট্রেলিয়ার আরও তিনটি সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটে এআই এজেন্টের কার্যক্রম শনাক্ত হয়েছিল। তবে সেসব ক্ষেত্রেও সংবেদনশীল তথ্যের রেকর্ডে প্রবেশের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে ওপেনএআই।
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সংস্থাগুলোকে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিষ্ঠানটির ১০০ কোটি ডলারের বৈশ্বিক তহবিল থেকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।
এ ছাড়া এসব ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে অস্ট্রেলিয়ায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করবে ওপেনএআই।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, আগামী ৬ অক্টোবর সিডনিতে এআইবিষয়ক অস্ট্রেলীয় সিনেট কমিটির শুনানিতে অংশ নেবেন ওপেনএআইয়ের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা জেসন কওন।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার ঘটনাটি নিয়ে দ্রুত পর্যালোচনা শুরু করেছে। এআই কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য নোটিফিকেশন ও রিপোর্টিংয়ের বাধ্যবাধকতা এবং এ ধরনের সাইবার হামলা মোকাবিলায় দেশটির বিদ্যমান আইন কতটা কার্যকর—তা পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়েছে।
এর মধ্যেই অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় নিরাপত্তা মান পূরণ করতে না পারায় নতুন এআই মডেল GPT-6.1 Astra-এর প্রকাশনা বাতিল করেছে ওপেনএআই।
সূত্র: রয়টার্স
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: