ইরানকে ঘিরে ভয়ংকর ছক! আমিরাতে নেতানিয়াহুর গোপন বৈঠকে ১০ দেশ!
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোপন সফরের খবর ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াচ্ছে। ঐ সফরকালে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কেবল আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানই গোপন বৈঠক করেননি, তার বাইরে আরব বিশ্বের আরো অন্তত আট দেশের প্রতিনিধিও গোপন বৈঠক করেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ফোরটিনের বিস্ফোরক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য সামনে এসেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
চ্যানেল ফোরটিনের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফলাও করে গোপন ঐ বৈঠকের খবর প্রকাশ করেছে । এসব প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বৈঠকটি দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্যায়ে নেতানিয়াহু ও শেখ মোহাম্মদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়। এরপর শুরু হয় সম্প্রসারিত বৈঠক। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, মরক্কো, মিসর, কুয়েত, বাহরাইন, লিবিয়া ও ওমানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ ইসরাইল ও আমিরাতসহ মোট ১০ দেশের প্রতিনিধি এতে ছিলেন।
অতি গোপন ঐ বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা। চ্যানেল ফোরটিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল ও আমিরাতের মধ্যে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং অভিন্ন হুমকি মোকাবেলায় একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামো গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। ইরান এবং ইয়েমেনের হুথিদের মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ, সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সহায়তা এবং নতুন একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে বলে দাবি করা হয়েছে।
এসবের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একটি ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। চ্যানেল ফোরটিন বলেছে, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে একটি বিকল্প তেল পরিবহন রুট তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এরই মধ্যে নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, ২৭ সেপ্টেম্বর শেখ মোহাম্মদ নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানান এবং দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেই উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ও জানায়, আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে ১০ দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এবং বৈঠকে আলোচিত নির্দিষ্ট বিষয়গুলো এখনো সরকারি পর্যায়ে নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন ইসরাইলি প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকা নিয়েও কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে।
এদিকে গোপনে নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে ইরান। এই অঞ্চলে ইসরাইলের উপস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানে ইসরাইলের সামরিক হামলা এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও লেবাননে দখলদারী ও সংঘাত আরও বাড়ার কারণে পশ্চিম এশিয়া বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক ও স্পর্শকাতর সময়গুলোর একটিতে আছে। এ অবস্থায় শত শত হাজার নিরপরাধ মানুষের রক্ত যার হাতে এবং যে কিনা আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি, এমন ঘৃ্ণ্য এক ব্যক্তির এই অঞ্চলে উপস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক।
বিভি/এইচজে













মন্তব্য করুন: