৭৯ হাজার কোটি টাকার বোয়িং-এ কী সুফল পাবে বিমান
বিশ্বমানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক এভিয়েশনের উদীয়মান 'হাব' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে বহরে নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ১১ টি বোয়িং বিমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।
গত এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বোয়িংয়ের মধ্যে মূল চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। যেখানে ১০টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭ ম্যাক্স সহ মোট ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে চুক্তির আওতায় আরও ১১টি বোয়িং বিমান যোগ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সব মিলিয়ে বোয়িং ক্রয়ের মোট অর্ডার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টি তে। যার জন্য সব মিলিয়ে খরচা হবে ৬৪০ কোটি ডোলার বা ৭৮ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। বোয়িং এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনু্যায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এটিই তাদের সর্ববৃহৎ অর্ডার। চুক্তি অনুযায়ী, প্রাথমিক অর্ডারের বিমানগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসা শুরু করবে। সেপ্টেম্বরে যুক্ত হওয়া অতিরিক্ত বিমানগুলো ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিমানের বহরে যুক্ত হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানের ১৯টি বোয়িং বিমান সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। নতুন চুক্তির আওতায় থাকা বিমানগুলোর মধ্যে ৫টিই ড্রিমালাইনার সিরিজের। বোয়িং ৭৮৭ -এর ড্রিমলাইনার সিরিজটি জ্বালানি সাশ্রয়ী। হালকা ওজন এবং আধুনিক ইঞ্জিনের কারণে এটি আগের যেকোনো বিমানের চেয়ে ২০-২৫% কম জ্বালানি খরচ করে। এছাড়া ড্রিমলাইনারের আধুনিক কাঠামোর কারণে বিমানের ভেতরে ৬,০০০ ফুট উ চ্চতার সমপরিমাণ বায়ুচাপ বজায় রাখা যায়। যে কারণে দূরপাল্লার যাত্রাতেও শরীরে ক্লান্তি বা 'জেটলেগ' কম অনুভূত হয়। নিউ ইয়র্ক বা ইউরোপের মতো দূরপাল্লার রুটের জন্য বিমান বাংলাদেশ আগে থেকেই এটি সফলভাবে ব্যবহার করে আসছে। ফলে দূরবর্তী ফ্লাইটের পাইলট, কেবিন ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ টিম এবং খুচরা যন্ত্রাংশ ―সবই বোয়িং ব্যবস্থার সাথে বহু বছর ধরে অভ্যস্ত।
বোয়িং ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ৫টি কানাডিয়ান 'ড্যাশ-৮' বিমান থাকলেও, ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কোন বিমান নেই। ১৯৯০-এর দশকে বিমানের বহরে মোট ৬টি এয়ারবাস যুক্ত হয়েছিল, যা দীর্ঘদিন সফলভাবে ইউরোপ ও দূরপ্রাচ্যের রুটে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ২০১৬ সালের পর সেগুলো সার্ভিস থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে বিমানের বহর পুরোপুরি বোয়িং-নির্ভর হয়ে পড়ে।
জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যের যৌথ অংশীদারিত্বে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান-এয়ারবাস-এর বিমান বর্তমানে বিশ্বের ১৩৫টিরও বেশি দেশে বাণিজ্যিক এবং সরকারিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাখোঁর বাংলাদেশ সফরে এয়ারবাসের ১০টি বিমান ক্রয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। সমঝোতা স্মারক সই হলেও পরবর্তীতে সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এয়ারবাস-এর কাছ থেকে ১০টি বিমান—সংগ্রহের একটি পৃথক প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিভি/এমএফআর













মন্তব্য করুন: