• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

সন্ত্রাসবাদ থেকে শুল্ক, আরও প্রকাশ্যে ট্রাম্প-মোদির বিরোধ!

প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সন্ত্রাসবাদ থেকে শুল্ক, আরও প্রকাশ্যে ট্রাম্প-মোদির বিরোধ!

সন্ত্রাসবাদ থেকে বাণিজ্য, পাকিস্তান থেকে শুল্ক; একাধিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের মতপার্থক্য এখন আগের তুলনায় আরও প্রকাশ্যে আসছে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অংশীদার দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ার মধ্যে ওয়াশিংটনের নীতির বিষয়ে নয়াদিল্লির অসন্তোষও স্পষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের একাধিক বক্তব্যে সেই অবস্থানের প্রকাশ ঘটেছে।

নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। ভারতের সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত উদ্বেগকে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট গুরুত্ব ও সহানুভূতির সঙ্গে দেখছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্কনীতির বিষয়েও ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বড় চাপের জায়গাগুলোর একটি এখন বাণিজ্য। ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এতে ভারতের ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল। তবে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশের অর্থনীতি, উৎপাদনব্যবস্থা ও সমাজের কাঠামোর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে কৃষি খাত ভারতের জন্য স্পর্শকাতর হওয়ায় বাণিজ্য আলোচনায় বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির বিষয়ে মোটামুটি একটি বোঝাপড়া তৈরি হলেও বাস্তবতার কারণে অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হয়েছে।

রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্কও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি করেছে। জয়শঙ্করের মতে, বাণিজ্য আলোচনা গত বছরে সম্পর্কে কিছুটা ‘ধাক্কা’ তৈরি করেছে এবং চুক্তি সম্পন্ন হলে তা সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

বাণিজ্যের পাশাপাশি পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জয়শঙ্কর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। ফলে বিষয়টি ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নিয়ে কোনো অংশীদার দেশের যথেষ্ট বোঝাপড়া বা সহানুভূতি না থাকলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সমস্যা তৈরি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি কার্যকরে নিজের ভূমিকার দাবি নিয়েও নয়াদিল্লি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ভারত কাশ্মীরসহ দুই দেশের বিরোধকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে দেখে এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় নয়াদিল্লির উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি ও এইচ-১বি ভিসা নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, বহু বছর ধরে মানুষের চলাচলকে অর্থনৈতিক সুবিধা হিসেবে দেখা হলেও এখন এর অর্থনীতি ও রাজনীতি পরস্পরের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করছে।

বিশ্লেষক অজয় বিসারিয়ার মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানকে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হার্শ পান্তের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পাকিস্তানকেন্দ্রিক নীতির সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের পার্থক্যও প্রকাশ্য মতপার্থক্যের অন্যতম কারণ।

তবে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এলেও দুই দেশই সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার পথে যাচ্ছে; এমনটি প্রতিবেদনে বলা হয়নি। চ্যাথাম হাউসের গবেষক চিয়েটিগ বাজপাইয়ের মতে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়লেও উভয় পক্ষই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন হওয়া সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।

এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অর্থাৎ, একদিকে নয়াদিল্লি বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ করছে, অন্যদিকে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ ও বাণিজ্য আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায় নির্ভর করছে বাণিজ্য, শুল্ক, সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তানসহ এসব ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান কতটা সমন্বিত হয়, তার ওপর।

সূত্র: আলজাজিরা

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত