• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি তেল রফতানি বন্ধ করলো চীন, এশিয়ায় বড় সংকটের শঙ্কা

প্রকাশিত: ২২:৪২, ২ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জ্বালানি তেল রফতানি বন্ধ করলো চীন, এশিয়ায় বড় সংকটের শঙ্কা

অক্টোবর মাসে হংকং ও ম্যাকাও ছাড়া অন্যান্য গন্তব্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি স্থগিত করেছে চীন। অভ্যন্তরীণ মজুত শক্তিশালী রাখার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশটির বড় রিফাইনারিগুলো পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের চালান স্থগিত বা বাতিল করেছে। এতে ইতোমধ্যে চাপের মধ্যে থাকা এশিয়ার জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা কর্তৃপক্ষ অক্টোবরের জন্য বড় রিফাইনারিগুলোকে হংকং ও ম্যাকাওয়ের বাইরে জ্বালানি রফতানির অনুমতি দেয়নি। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোচায়না অক্টোবরের কয়েকটি পেট্রোল ও জেট ফুয়েল চালানও বাতিল করেছে। তবে ৭ অক্টোবর চীনের জাতীয় ছুটি শেষ হওয়ার পর রফতানি অনুমোদন আবার দেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

চীনের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া চীনের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের উল্লেখযোগ্য ক্রেতা। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশও চীন থেকে ডিজেল আমদানি করে।

চীনের রফতানি কমে যাওয়ার খবর ইতোমধ্যে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এশিয়ায় পেট্রোলের পরিশোধন মুনাফা প্রতি ব্যারেলে ৫০ ডলারের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের নিকটমেয়াদি দামের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহে চাপ রয়েছে। রাশিয়া অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত ডিজেল রফতানি নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার কিছু রিফাইনারিতে সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক ডিজেল বাজারও চাপে রয়েছে।

এর আগে বছরের বিভিন্ন সময়ে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীন জ্বালানি রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। জুলাইয়ে এসব বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হলেও অক্টোবরে আবার রফতানি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চীনের অভ্যন্তরীণ পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত কমে যাওয়াই নতুন সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চীনের রফতানি স্থগিতের ফলে শুধু এশিয়াতেই নয়, বিশ্ববাজারেও পরিশোধিত জ্বালানির দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর প্রভাব কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে চীনের অভ্যন্তরীণ মজুত, রফতানি নীতির পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য উৎপাদক দেশের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর।

সূত্র: রয়টার্স

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত