স্পেনে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
স্পেনের সংখ্যালঘু সরকারের প্রস্তাবিত আবাসন সংকট নিরসন বিল সংসদে বাতিল হয়ে যাওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দেশটির সাধারণ নির্বাচন। সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বিভিন্ন জনমত জরিপে ডানপন্থি পিপি (পিপলস পার্টি) ও ভক্স জোটবদ্ধভাবে ভালো ফল করার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। কিছু জরিপে আবার এই দুই দলের সম্মিলিত ভোট ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, দেশকে আরও এগিয়ে নিতে তার নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল জোটের আরও শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর স্পেনের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। আন্তর্জাতিক সংকট, রাজনৈতিক বিরোধ, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সংসদে বিভিন্ন দলের মতবিরোধের মধ্যেই সরকারকে কাজ করতে হয়েছে।
এদিকে আগাম নির্বাচনের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে সামনে এসেছে আবাসন সংকট। গত শুক্রবার স্পেনের সংসদে সরকারের আনা আবাসনসংক্রান্ত দুটি ডিক্রি অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়। সরকারের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ডানপন্থি দলগুলোর পাশাপাশি কাতালান স্বাধীনতাপন্থি দল জুনৎসও ভোট দেয়।
এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা সানচেজ সরকার হারিয়েছে—বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও উচ্ছেদ ঠেকানোর মতো বিষয়গুলো এখন স্পেনের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।
মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আবাসন নিয়ে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়। বিভিন্ন জায়গায় আবাসন অধিকার নিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ভাড়ার দাম নিয়ন্ত্রণ ও উচ্ছেদ ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করে।
কিন্তু সংসদে সরকারের প্রস্তাব আটকে যাওয়ায় রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়। এরই একপর্যায়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, আরও বেশি সামাজিক ও আবাসনসংক্রান্ত সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য জনগণের কাছ থেকে তার সরকারকে আরও শক্তিশালী ম্যান্ডেট প্রয়োজন।
তিনি দাবি করেন, তার সরকারের সময়ে স্পেনের অর্থনীতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তবে আসন্ন নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এবং তার দল পিএসওইর জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে ডানপন্থি পিপি ও ভক্স জোটবদ্ধভাবে ভালো ফল করার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। কিছু জরিপে এই দুই দলের সম্মিলিত ভোট ৫০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় বামপন্থি ভোটারদের আবারও ঐক্যবদ্ধ করাই সানচেজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে আগাম নির্বাচন ঘোষণায় বিরোধী দলগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে পিপি ও ভক্সের মধ্যে, জয়ের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: