প্রথমবারের মতো ইবোলা ধরা পড়লো আরও এক দেশে!
ছবি: বিবিসি
কঙ্গোর পর এবার কেনিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা। দেশটিতে প্রথমবারের মতো ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি এ রোগে আক্রান্ত এক কেনীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই ব্যক্তি গত সাত বছর ধরে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) বসবাস করছিলেন।
কেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাডেন ডুয়ালে জানান, প্রায় এক মাস আগে ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডিআর কঙ্গোর কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে পৌঁছান। সেখানে আসার কয়েক দিন পর তার মৃত্যু হয়।
ডুয়ালে জানান, ওই ব্যক্তি শনিবার একটি ফ্লাইটে করে নাইরোবিতে আসেন। প্রধান বিমানবন্দরে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে এক আত্মীয় তাকে শহরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। চলতি বছর ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণে ৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি দেশটিতে ইবোলার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মে মাসে ডিআর কঙ্গো ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার কিছুদিন পর প্রতিবেশী উগান্ডাতেও রোগটি শনাক্ত হয়। সেখানে দুজনের মৃত্যু হয়। তবে আগস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকে নতুন সংক্রমণের সবগুলোই ডিআর কঙ্গোতে শনাক্ত হয়েছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার ‘বান্দিবুগিও’ প্রজাতি। এটি তুলনামূলকভাবে বিরল একটি প্রজাতি এবং এর বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। কেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশটিতে আক্রান্ত ওই ব্যক্তিও বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসে সংক্রমিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি প্রথমে সড়কপথে ডিআর কঙ্গো থেকে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় যান। পরে সেখান থেকে বিমানে করে নাইরোবিতে পৌঁছান। নাইরোবির হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে কোভিড-১৯ মহামারির সময় নির্মিত একটি আইসোলেশন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার জ্বর, কাঁপুনি, তীব্র ক্লান্তি ও দুর্বলতা, গিলতে ব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
ডুয়ালে বলেন, রোগীর উপসর্গ ও ভ্রমণের ইতিহাস দেখে চিকিৎসকেরা ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের সন্দেহ করেন। পরে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তাতে বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিট) ওই রোগীর মৃত্যু হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রোটোকল অনুসরণ করে মঙ্গলবার তার দাফন করার কথা রয়েছে।
এদিকে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্তত ২৮ জনকে তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। একই ফ্লাইটে ভ্রমণকারী আরও ২৩ যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্যের সন্ধানেও কাজ চলছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৪৬৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই প্রজাতির ইবোলার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় কেনিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণ শনাক্ত ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নজরদারিতে জোর দিচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: