• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

গণগ্রেফতারের পর ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১৩:১৭, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৩:১৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
গণগ্রেফতারের পর ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ

গণগ্রেফতার, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনার পর ফ্রান্সজুড়ে আরও তীব্র হচ্ছে বিক্ষোভ। শিক্ষায় আরও বিনিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমর্থনে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশব্যাপী কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক সংগঠন ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেন (ইউএসএল)। গত এক সপ্তাহের বিক্ষোভে শত শত স্কুল অবরুদ্ধ, অন্তত ১৯০ শিক্ষার্থী আহত এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) উত্তরাঞ্চলীয় শহর লঁসের একটি স্কুলের কাছে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর হাত গুরুতরভাবে আহত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে গত সপ্তাহে ১৪ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী কাঁদানে গ্যাসের গ্রেনেডের আঘাতে মাথায় গুরুতর আহত হয়। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। তবে ইউএসএল দাবি করেছে, সরকার তাদের সামনে ‘কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব’ দেয়নি। রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও আন্দোলনের ওপর ‘নজিরবিহীন দমন-পীড়নের’ অভিযোগ তুলে মঙ্গলবারের (৬ অক্টোবর) কর্মসূচিতে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে কয়েকটি সংগঠনও। শিক্ষকদের সংগঠন এসএনইএস-এফএসইউ তাদের সদস্যদের মঙ্গলবারের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ধীরে ধীরে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থীসংখ্যার কারণে শ্রেণিকক্ষে ভিড়, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষা খাতের নানা সমস্যার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়। প্রথমে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিলেও পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা খাতের কর্মীদের সমস্যার সমাধানে বেশ কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। স্কুলগুলোতে ‘দৃশ্যমান পরিবর্তন’ আনার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তবে একই সঙ্গে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, সরকার কোনো ধরনের সহিংসতার কাছে ছাড় দেবে না।

এদিকে আন্দোলন ঘিরে কয়েকটি স্কুলে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার গেফ্রে জানিয়েছেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া ও ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে।

ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ৫ হাজার ৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের ৮৭ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ জনকে বিচারপূর্ব হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৮০২ জনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে; তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ইউএসএল বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ দাবি করেছেন, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ‘অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণভাবে’ দায়িত্ব পালন করেছে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রে চলে এসেছে। সরকার ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকরা আন্দোলন উসকে দেওয়ার জন্য কট্টর বামপন্থিদের দায়ী করেছেন। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু আন্দোলন বিস্তৃত করার আহ্বান জানানোর জন্য লা ফ্রঁস ইনসুমিজকে (এলএফআই) ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে সমালোচনা করেছেন।

কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালি দলের নেতা মেরিন ল্য পেনও বামপন্থিদের সমালোচনা করে আন্দোলনকে দাঙ্গা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং নতুন দাঙ্গাবিরোধী আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এলএফআই নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ পুলিশের ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ অভিযোগ তুলেছেন। তিনি এই আন্দোলনকে ১৯৬৮ সালের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে শক্তিশালী শিক্ষার্থী আন্দোলনগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তরুণদের বিক্ষোভ রক্ষায় মানুষকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত