কিশোরের কাছে একে-৪৭ বিক্রি করলো এফবিআই, গ্রেফতার নিয়ে চাঞ্চল্য!
যুক্তরাষ্ট্রের মল অব আমেরিয়ায় হামলার পরিকল্পনা করা এক ১৮ বছর বয়সী তরুণকে প্রায় দুই বছর নজরদারিতে রাখার পর গ্রেফতার করেছে এফবিআই। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হামলার পরিকল্পনা যাচাই ও তা ঠেকানোর অভিযানের অংশ হিসেবে ওই তরুণের কাছে অস্ত্র ও গুলি সরবরাহ করেছিলেন এফবিআইয়ের গোপন কর্মকর্তারাই। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অস্ত্র নেওয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শেখদুন আবদুল্লাহি মোহামুদ নামের ওই তরুণ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এফবিআইয়ের নজরে ছিলেন। সে সময় তিনি একজন গোপন তথ্যদাতার সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান শুরু করেন। আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, শুরুতে তিনি আল-শাবাবের হয়ে লড়াই করতে সোমালিয়া যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। পরে সেই পরিকল্পনা বাদ দিয়ে মল অব আমেরিয়ায় হামলার পরিকল্পনা করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি ড্যানিয়েল রোজেন বলেন, ‘এটি ছিল উগ্রপন্থায় প্রভাবিত এক তরুণ, যাকে নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন ছিল।’ তার ভাষ্য, কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন।
এফবিআই জানায়, মঙ্গলবার মল অব আমেরিয়া থেকে কয়েক মাইল উত্তর-পশ্চিমে রিচফিল্ডের একটি পার্কে মোহামুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে ইসলামিক স্টেটের সদস্য পরিচয় দেওয়া এফবিআইয়ের এক গোপন কর্মকর্তার কাছ থেকে ৬০০ ডলারের বিনিময়ে একটি রাইফেল ও ২০০ রাউন্ড গুলি নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সেন্ট পলের ফেডারেল আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির করা হয় মোহামুদকে। এ সময় তার পরনে ছিল কারাগারের হলুদ পোশাক। বিচারককে তিনি জানান, তার কোনো চাকরি, বাড়ি বা গাড়ি নেই এবং ব্যাংকেও কোনো অর্থ নেই। আদালত তার পক্ষে সরকারি আইনজীবী সিরি কার্লসন ম্যাকডোয়েলকে নিয়োগ দেয়। শুনানি শেষে কার্লসন ম্যাকডোয়েল ও মোহামুদের স্বজনেরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অ্যাটর্নি রোজেন জানান, মোহামুদ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী দেশটির নাগরিক এবং তার পারিবারিক শিকড় সোমালিয়ায়।
এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তার দেওয়া শপথযুক্ত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মোহামুদ বারবার ওই তথ্যদাতাকে বার্তা দিয়ে নিশ্চিত করেছিলেন যে, তিনি ২৪ অক্টোবর মলটিতে হামলার পরিকল্পনা করছেন। ওই দিন মিনেসোটার সবচেয়ে বড় এশীয় জাতিগোষ্ঠী হমং সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন হওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তথ্যদাতা তাকে হামলার বিষয়ে সত্যিই নিশ্চিত কি না জানতে চাইলে মোহামুদ উত্তর দেন, তিনি এ বিষয়ে ‘১০০ শতাংশ নিশ্চিত’। তিনি আরও জানান, নিশ্চিত না হলে এতদিনে পরিকল্পনা থেকে সরে আসতেন।
এফবিআইয়ের কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোহামুদের বার্তায় সাম্প্রতিক কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার প্রতি তার সমর্থন ও আগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি সোমালিয়ায় গিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হয়ে লড়াই করার বিষয়েও আগ্রহ দেখান। তবে সেখানে যাওয়ার খরচ বহন করা সম্ভব নয় বুঝতে পেরে পরে তিনি মলে হামলার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই প্রথম এফবিআইয়ের নজরে আসেন মোহামুদ। ২০২৫ সালের মে মাসে কর্মকর্তারা তার বাড়িতেও যান। সে সময় তার মা জানান, ছেলে তখনো স্কুল থেকে ফেরেনি। পরে তিনি ছেলেটির বাবাকে ফোন করেন। তবে বাবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের যোগাযোগের তথ্য তার আইনজীবীকে দেবেন বলে জানান।
অ্যাটর্নি রোজেন মিনেসোটা ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, কোনো সন্তান উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়ছে—বিশেষ করে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি এ বিষয়ে সতর্ক করতে যোগাযোগ করে—তাহলে সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।
১৯৯০-এর দশকে শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসা শুরু করার পর থেকে মিনেসোটায় সোমালি বংশোদ্ভূত কয়েক হাজার মানুষের বসবাস গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতীতে সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: