• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৬, দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

প্রকাশিত: ২০:৫৯, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৬, দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

পোল্যান্ডের ঐতিহাসিক শহর ক্রাকোর প্রাণকেন্দ্রে বন্দুকধারীর হামলায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির জাতীয় প্রসিকিউটর কার্যালয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীর বাড়ি থেকে তার পরিবারের আরও তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ক্রাকোর ঐতিহাসিক নগরকেন্দ্রে এ হামলা চালান ২৪ বছর বয়সী এক পোলিশ নাগরিক। নিহত ছয়জনের মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া হামলায় আহত ১৫ জনের মধ্যে অস্ট্রিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, পর্তুগাল ও রাশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পিএপি জানিয়েছে।

পরে ক্রাকো থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ওস্ত্রোভিয়েক শভিয়েন্তোকশিস্কি শহরে সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়ি থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ওই ব্যক্তির বাবা-মা ও বোন। পুলিশের অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হামলাকারীও আহত হন। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পোল্যান্ডের জাতীয় প্রসিকিউটর কার্যালয় জানায়, ক্রাকোর হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ছয়জনকে হত্যা এবং পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরও অনেককে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। কার্যালয়টির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসী অপরাধের আওতায় পড়ে।

প্রসিকিউটর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড্যানিয়েল প্রোকোপোভিচ বলেন, ওস্ত্রোভিয়েক শভিয়েন্তোকশিস্কি ও ক্রাকোর হত্যাকাণ্ড একই ব্যক্তি ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম মিখাল ও। তার বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল এবং অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি বলেছেন, হামলাকারী উগ্র ডানপন্থী ও অতিজাতীয়তাবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন।

এদিকে হামলার পর রবিবারও ক্রাকোর প্রধান মার্কেট স্কয়ার ও আশপাশের সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়। জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ছাড়া অন্য কাউকে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। আশপাশের অনেক ক্যাফে বন্ধ ছিল। নগর ভবনের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন স্থানে মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান শোকাহত মানুষ।

নিহতদের স্মরণে মার্কেট স্কয়ারের সেন্ট মেরি গির্জা থেকে প্রতি ঘণ্টায় প্রচলিত তূর্যধ্বনি ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়। পোলিশ প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৩৯ সালের পর এই প্রথম এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

সূত্র: আলজাজিরা

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: