অতিরিক্ত ডিম খেলে যাদের ক্ষতি হতে পারে
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং সহজলভ্য হওয়ায় ডিম নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখেন অনেকেই। প্রোটিন, ফ্যাটসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের উৎস হওয়ায় শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সীদের জন্যই এটি জনপ্রিয় খাবার। তবে উপকারী হলেও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডিম খাওয়ার অভ্যাস শরীরে কিছু বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
ডিমে থাকে যেসব পুষ্টি উপাদান
ডিমের সাদা অংশে মূলত উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। অন্যদিকে কুসুমে থাকে ফ্যাট, প্রোটিন ও কোলেস্টেরল। ফলে ডিমের কোন অংশ কতটা খাওয়া হচ্ছে, সেটিও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অতিরিক্ত ডিমে যেসব সমস্যা হতে পারে
কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি: ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকে। অতিরিক্ত কুসুম খেলে কিছু মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ডিমের পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
হৃদ্স্বাস্থ্যে প্রভাব: ডিমে উপকারী ফ্যাটের পাশাপাশি স্যাচুরেটেড ফ্যাটও থাকে। তাই অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্রোগের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রেও খাদ্যতালিকায় ডিমের পরিমাণ নির্ধারণে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
হজমের সমস্যা: একসঙ্গে বেশি ডিম খেলে কারও কারও পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপসর্গ বেশি দেখা দিতে পারে।
অ্যালার্জির সমস্যা: ডিমে অ্যালার্জি রয়েছে এমন ব্যক্তিরা বেশি ডিম খেলে চুলকানি, ফুসকুড়ি, পেটের সমস্যা কিংবা অন্যান্য অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এমন ক্ষেত্রে ডিম এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সাদা অংশও অতিরিক্ত নয়: ডিমের সাদা অংশে উচ্চমানের প্রোটিন থাকায় মাংসপেশি বাড়ানোর জন্য অনেকে একসঙ্গে অনেকগুলো ডিমের সাদা অংশ খান। তবে কোনো একটি খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্য গ্রহণ করাই ভালো।
তাহলে কতটা ডিম খাওয়া উচিত?
ডিম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হলেও সবার জন্য একই পরিমাণ উপযোগী নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস এবং কোনো রোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করে ডিমের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
সুস্থ ব্যক্তির খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে ডিম রাখা যেতে পারে। তবে উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগের মতো সমস্যা থাকলে নিয়মিত বেশি ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার মিলিয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: