মাস শেষে টাকা থাকে না? সঞ্চয়ের ১০ উপায়
আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা জরুরি। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় অনেকেরই মাস শেষে হাতে টাকা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। একদিকে সংসারের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য থাকছে না। ফলে চাইলেও সঞ্চয় করা সম্ভব হচ্ছে না অনেকের।
তবে একটু পরিকল্পনা করে চললে সীমিত আয়ের মধ্যেও খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি করা যায়। দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলেই মাস শেষে কিছু অর্থ জমাতে পারবেন।
জেনে নিন স্বল্প আয়েও সঞ্চয়ের ১০ উপায়—
১. যাতায়াতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমান
অফিসে যাওয়ার পথে সম্ভব হলে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত হেঁটে যান। এতে রিকশা ভাড়া বাঁচার পাশাপাশি সকালের হাঁটাও হয়ে যাবে। ফেরার সময়ও কাছাকাছি দূরত্ব হলে রিকশার পরিবর্তে হেঁটে বাড়ি ফিরতে পারেন। প্রতিদিনের সামান্য সাশ্রয় মাস শেষে উল্লেখযোগ্য অঙ্কে পরিণত হতে পারে।
২. মাসের শুরুতেই বাজেট করুন
মাসের শুরুতেই আয় ও সম্ভাব্য খরচের হিসাব করুন। প্রয়োজনীয় খরচগুলো আলাদা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের জায়গাগুলো চিহ্নিত করুন। কেনাকাটার সময় দরদাম করলেও কিছু অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।
৩. অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন
শুধু পছন্দ হয়েছে বলেই কোনো পণ্য কিনবেন না। কেনার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, জিনিসটি সত্যিই প্রয়োজন কি না। একই পণ্য কম দামে কোথায় পাওয়া যাচ্ছে, তা যাচাই করে কেনাকাটা করলে খরচ কমানো যায়।
৪. নির্দিষ্ট সময় ধরে খরচের হিসাব রাখুন
মাসের ৫ তারিখ থেকে পরবর্তী মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে বাজেট তৈরি করতে পারেন। এতে আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা সহজ হবে এবং কোথায় অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
৫. ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগান
যেসব পণ্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং নিয়মিত প্রয়োজন হয়, সেগুলো মূল্যছাড়ের সময় কিনে রাখতে পারেন। বিভিন্ন দোকান বা প্রতিষ্ঠানের ছাড়, কুপন ও বিশেষ অফারের খবর রাখুন। তবে শুধু ছাড় আছে বলেই অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৬. অনলাইন কেনাকাটায় ছাড় খুঁজুন
অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় মূল্যছাড়, কুপন ও বিশেষ অফার পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার আগে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাম ও ছাড়ের তুলনা করে দেখুন। এতে একই পণ্য তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
৭. বাইরে খাওয়ার খরচ কমান
দামি রেস্তোরাঁয় ঘন ঘন খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা কমিয়ে আনুন। পরিবার নিয়ে বাইরে খেতে চাইলে আগে থেকেই বিভিন্ন রেস্তোরাঁর অফার ও ছাড়ের তথ্য জেনে নিতে পারেন। এতে বিনোদনের পাশাপাশি খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
৮. অপ্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করবেন না
অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে পরবর্তী সময়ে ঋণের চাপ তৈরি হতে পারে। তাই মাসের শুরুতেই নির্দিষ্ট বাজেট করে সেই অর্থের মধ্যেই কেনাকাটা করার চেষ্টা করুন।
৯. নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস করুন
অল্প হলেও প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করুন। সম্ভব হলে বেতন বা আয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে রাখুন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরের ব্যবস্থা থাকলে নিয়মিত সঞ্চয় করা আরও সহজ হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী মিউচুয়াল ফান্ড বা অন্যান্য বিনিয়োগের মাধ্যমেও অর্থ সঞ্চয় করতে পারেন।
১০. নিমন্ত্রণ ও উপহারে বাজেট ঠিক রাখুন
যেদিন কোনো নিমন্ত্রণ থাকে, সেদিন বাড়িতে অতিরিক্ত রান্নার আয়োজন কমিয়ে আনতে পারেন। একইভাবে উপহার কেনার সময় নিজের সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করুন। শুধু সামাজিকতা রক্ষার জন্য বাজেটের বাইরে গিয়ে দামি উপহার কেনার প্রয়োজন নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সঞ্চয়ের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের অপেক্ষা না করে অল্প অল্প করে শুরু করা। নিয়মিত খরচের হিসাব রাখা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করলেই ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: