• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বসে বসে আঙুল চুষবো না, সরকারকে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

রংপুর ব্যুরো

প্রকাশিত: ০০:৫৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বসে বসে আঙুল চুষবো না, সরকারকে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

সরকার জনগণের দাবি ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাজপথে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাই কিছু একটা হওয়ার আগেই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যদি না হয়, তাহলে বসে বসে আঙুল চুষবো না।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুরে আয়োজিত এ সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলেও তারা প্রতারণা করতে পারবেন না। অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন চলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্রাম নেব না। আমরা নেমেছি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে। সেই অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবো, ইনশাআল্লাহ।’

সংবিধান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সংবিধানে যদি গণভোটের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের গণবিপ্লবও সংবিধান মেনে হয়নি। তার ভাষ্য, সংবিধানের বাইরে গিয়েই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই সংবিধান মানতে হলে সবকিছু মানতে হবে, আর কোনো অংশ বাদ দিলে সবটাই বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নেতার পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি যে আহ্বান জানানো হয়, সেটিই জাতির প্রতি অঙ্গীকার। কিন্তু সেই অঙ্গীকার রক্ষা করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

১১ দলীয় জোটের আট দফা দাবি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহর কসম, একটা দাবিও আমাদের দলীয় দাবি নয়। এই দাবিগুলো ১৮ কোটি মানুষের দাবি।’ তিনি বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন এক দফায় পরিণত হতে পারে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাত মাস পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। জনগণকে বারবার ধোঁকা দেওয়া ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে তারা ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনারও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের কাছে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে এমন পথে হাঁটছে, যে পথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেঁটেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। একই পথে হাঁটলে পরিণতিও একই হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

দ্রব্যমূল্য ও জনদুর্ভোগ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, রংপুরের মানুষ গ্যাস পাচ্ছে না, কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাও এতে বক্তব্য দেন।

১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরা হয়।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দল। রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে দুর্নীতি, দখলদারি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত করা হয়।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: